আহমেদাবাদ, ৩ জুন (আইএএনএস): গুজরাট পুলিশের বৃহৎ অভিযানে আহমেদাবাদে আটক সন্দেহভাজন অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের মধ্যে ১৬৬ জনের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জালিয়াতির মাধ্যমে ভারতীয় আধার কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। ফলে নথি জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে বৃহত্তর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বুধবার চলমান অভিযানের অগ্রগতি সম্পর্কে জানিয়ে আহমেদাবাদ পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শারদ সিংঘাল বলেন, ‘অপারেশন ডেল্টা হান্ট’-এর আওতায় সারা গুজরাটে ৩০০-রও বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৬৬ জনের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, “এই ১৬৬ জনের মধ্যে বেশ কয়েকজন বেআইনিভাবে ভারতীয় আধার কার্ড সংগ্রহ করেছিলেন। কারা এবং কীভাবে এই নথি তৈরি করে দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
পুলিশ আরও তদন্ত করছে, ওই ব্যক্তিরা কীভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, এখানে কী ধরনের কাজ করতেন এবং কোন মাধ্যমে অর্থ লেনদেন বা দেশে টাকা পাঠাতেন।
এই অভিযান পরিচালিত হয় আহমেদাবাদের পুলিশ কমিশনার জি.এস. মালিক-এর তত্ত্বাবধানে। ক্রাইম ব্রাঞ্চ, সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ, স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ (এসওজি) এবং স্থানীয় থানার ৩০টিরও বেশি দল এতে অংশ নেয়।
শহরের নারোদা, দানিলিমদা, ভাটভা, ভাটভা জিআইডিসি, জুহাপুরা-সহ বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও পরিচয় যাচাই অভিযান চালানো হয়।
শরদ সিংহল জানান, গোয়েন্দা তথ্য এবং প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমে জানা গিয়েছিল যে গত বছর চাঁদোলা লেক এলাকায় পুলিশের অভিযানের পর পালিয়ে যাওয়া কিছু ব্যক্তি পরে আহমেদাবাদের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন।
অভিযানে ৩০০-রও বেশি পুরুষ, মহিলা ও শিশুকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ১৬৬ জনকে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশকারী বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ১৫০ জনেরও বেশি ব্যক্তির পরিচয় যাচাই ও জিজ্ঞাসাবাদ এখনও চলছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও আহমেদাবাদে বড় ধরনের অভিযানে ৪৬৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে আইনি বিধি মেনে বর্তমান অভিযানে ধৃতদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি-র নির্দেশনায় দ্রুত প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে প্রশাসন।
এদিকে, তদন্তকারীরা এখন জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরির নেপথ্যে থাকা চক্রগুলিকেও চিহ্নিত করার চেষ্টা করছেন। তদন্তের পরিধি শুধু অবৈধ অনুপ্রবেশ নয়, বরং পরিচয়পত্র জালিয়াতি এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের দিকেও বিস্তৃত হচ্ছে।


















