ঢাকা, ৩ জুন (আইএএনএস): বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনা অব্যাহত থাকতেই মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলায় একটি মাজারে হামলার ঘটনায় গুরুতর জখম হলেন এক সাংবাদিক। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে।
আক্রান্ত সাংবাদিকের নাম কবির হোসেন। তিনি বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক-এর ফটোসাংবাদিক এবং স্থানীয় লালন আখড়া ‘পদ্মহেম ধাম’-এর সভাপতিও।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে লতাবদী ইউনিয়নের এক স্থানীয় বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর মাদবরকে আটক করেছে। বাংলাদেশের সংবাদপত্র ঢাকা ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার ঘটনায় তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সিরাজদিখান উপজেলা-এর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল হান্নান জানান, মাজার-সংক্রান্ত জমি নিয়ে কবির হোসেন ও জাহাঙ্গীর মাদবরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।
ওসির বক্তব্য, ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার বচসা শুরু হয় এবং তা ক্রমে সংঘর্ষে পরিণত হয়। এরপর কবির হোসেনের উপর হামলা চালানো হয়। পুলিশ পরে অভিযুক্তকে আটক করে এবং বাকি অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, জাহাঙ্গীর মাদবরের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি মাজার প্রাঙ্গণে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কবির হোসেনের উপর হামলা চালায়। হামলায় কবিরের ভাই তাকবির বাউলও আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভক্তরা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সিরাজদিখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাঁদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।
হাসপাতাল থেকে কবির হোসেন অভিযোগ করেন, গত ছয় মাস ধরে তাঁকে মাজার থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
তাঁর দাবি, “মঙ্গলবার বিএনপির ওয়ার্ড সভাপতি জাহাঙ্গীর মাদবর কয়েকজনকে নিয়ে মাজারে এসে আমাদের উপর হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আমার মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে।”
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুহাম্মদ ইউনুস-এর নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের আমলে বাংলাদেশে সাংবাদিকদের উপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও সেই প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ।
এদিকে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন সাংবাদিকদের সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান-এর কাছে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা রক্ষার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানায়।
সিপিজে বলেছে, স্বাধীন সাংবাদিকতা একটি সাংবিধানিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের অপরিহার্য অংশ। সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো ও সাংবাদিকদের উপর হামলায় উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।



















