ইম্ফল, ৩১ মে (আইএএনএস): প্রমাণ ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, বৈজ্ঞানিক ও কার্যকর করতে প্রথমবারের মতো ‘ই-মালখানা’ ব্যবস্থা চালু করল মণিপুর পুলিশ। পুলিশ সূত্রে রবিবার জানানো হয়েছে, থানাস্তরে মালখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই ডিজিটাল উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এক শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত বাজেয়াপ্ত সামগ্রী ও প্রমাণের সংরক্ষণ, নজরদারি এবং নিষ্পত্তি প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও স্বচ্ছ করে তোলাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি থানার প্রশাসনিক কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও দক্ষতাও বৃদ্ধি পাবে।
এই প্রকল্পের আওতায় ইরিলবুং পুলিশ স্টেশন-এর মালখানাকে আধুনিকীকরণ করে ‘ই-মালখানা’-য় রূপান্তর করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন ইম্ফল পূর্ব জেলার পুলিশ সুপার শিবানন্দ সুরভে এবং আইপিএস আধিকারিক পূজা মালানি।
পুলিশের দাবি, নতুন ব্যবস্থায় মামলার প্রমাণ ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণ, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। প্রতিটি সামগ্রীকে ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা হবে এবং একটি স্বতন্ত্র বারকোড দেওয়া হবে।
এই বারকোডে এফআইআর নম্বর, সংশ্লিষ্ট আইনের ধারা, তদন্তকারী আধিকারিকের নাম, বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর বিবরণ, ছবি, বর্তমান অবস্থা এবং নিষ্পত্তির তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। বারকোডটি সংশ্লিষ্ট মামলার নথির সঙ্গেও সংযুক্ত থাকবে, ফলে তদন্ত বা আদালতের প্রয়োজনে দ্রুত প্রমাণ শনাক্ত ও উদ্ধার করা যাবে।
পুলিশের মতে, এই ব্যবস্থা ডিজিটাল রেকর্ড ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নথিপত্র সংরক্ষণে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করবে। একই সঙ্গে প্রচলিত পদ্ধতিতে দেখা দেওয়া নথি হারিয়ে যাওয়া, তথ্যের পুনরাবৃত্তি এবং প্রশাসনিক বিলম্বের মতো সমস্যাও অনেকটাই কমবে।
পুলিশ আধিকারিক জানান, এই উদ্যোগ মালখানা পরিচালনার দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে এবং থানার প্রশাসনে আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
‘মালখানা’ শব্দটি ফারসি শব্দ ‘মাল’ (সম্পত্তি) এবং ‘খানা’ (সংরক্ষণের স্থান) থেকে এসেছে। থানার অভ্যন্তরে তদন্ত চলাকালীন বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তি ও প্রমাণ সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত স্থানকেই মালখানা বলা হয়। এসব সামগ্রী ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, 2023 এবং অন্যান্য বিশেষ আইন অনুযায়ী বাজেয়াপ্ত করা হয় অথবা প্রাথমিক তদন্তের সময় নিরাপদ হেফাজতের জন্য সংরক্ষণ করা হয়।
পুলিশের মতে, অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় প্রমাণ ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর যথাযথ সংরক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলির সঠিক ব্যবস্থাপনা নিরপেক্ষ তদন্ত, সফল বিচারপ্রক্রিয়া এবং সামগ্রিকভাবে বিচারব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আধিকারিক আরও বলেন, প্রমাণ ও বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর সঠিক ব্যবস্থাপনা না হলে অপরাধমূলক মামলার বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে, আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষুণ্ণ হতে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অপর্যাপ্ত ও অবৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ পদ্ধতির কারণে বাজেয়াপ্ত সামগ্রী চুরি, বদল, আত্মসাৎ বা নষ্ট হওয়ার ঘটনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এমনকি বিস্ফোরক জাতীয় বিপজ্জনক সামগ্রী সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করায় অতীতে মালখানায় দুর্ঘটনা ও বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটেছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে মণিপুর পুলিশ।
______



















