কাঠমান্ডু, ৩১ মে (আইএএনএস): নেপালের শাসকদল রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-র সভাপতি রবি লমিছানে আগামী ১ ও ২ জুন ভারত সফরে আসছেন। এমন এক সময়ে তাঁর এই সফর হতে চলেছে, যখন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ-এর প্রস্তাবিত ভারত সফর এখনও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।
আরএসপির মুখপাত্র মনীশ ঝা আইএএনএস-কে জানিয়েছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতি নীতিন নবীন-এর আমন্ত্রণে রবি লামিছানে দু’দিনের সফরে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন।
সূত্রের খবর, বিজেপি সভাপতির পাশাপাশি তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর-সহ একাধিক শীর্ষ নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন। যদিও সফরের বিস্তারিত কর্মসূচি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি।
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব দিয়েছে বিজেপি। এর আগে নেপালের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও বিজেপির আমন্ত্রণে ভারত সফর করেছেন।
আরএসপি বর্তমানে নেপালের ইতিহাসে প্রথম ‘জেন-জি সমর্থিত’ সরকার পরিচালনা করছে। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই নতুন রাজনৈতিক দলটি অল্প সময়ের মধ্যেই নেপালের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
রবি লামিছানের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ভারত ও নেপালের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে লিপুলেখ, কালাপানি এবং লিম্পিয়াধুরা সীমান্ত অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও সামনে এসেছে।
মে মাসের শুরুতে ভারত ও চীন যৌথভাবে ঘোষণা করে যে ভারতীয় তীর্থযাত্রীরা বিতর্কিত লিপুলেখ পথ দিয়ে কৈলাস-মানসসরোবর যাত্রা করবেন। এর প্রতিবাদে নেপাল ভারত ও চীনের কাছে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানায়।
এছাড়াও ভারত থেকে নেপালে আনা পণ্যের উপর কড়া শুল্ক আরোপ, নেপালি চায়ের চালানে অতিরিক্ত পরীক্ষার নিয়ম এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক ইস্যু নিয়েও দুই দেশের মধ্যে কিছু মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে।
এদিকে, ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রি-র নির্ধারিত নেপাল সফর হঠাৎ বাতিল হওয়ায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
যদিও প্রধানমন্ত্রী মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, নেপাল সরকারের তরফে জানানো হয়েছে যে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ইস্যু নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা সম্পন্ন হওয়ার পরই সেই সফরের সময় নির্ধারণ করা হবে।
নেপালের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত লোক রাজ বারাল মনে করেন, নেপালে শক্তিশালী জনসমর্থন পাওয়া একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের আগ্রহ স্বাভাবিক।
তাঁর মতে, “রবি লামিছানের সফর দুই পক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক বোঝাপড়া বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে। যদিও সীমান্ত বিরোধ বা অন্যান্য জটিল দ্বিপাক্ষিক সমস্যা তাৎক্ষণিকভাবে মিটবে না।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, নেপালের নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।



















