নয়াদিল্লি, ৩০ মে (আইএএনএস): পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এবং মুম্বই আন্ডারওয়ার্ল্ড চক্রের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগে নয়জনকে গ্রেফতার করেছে দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পাশাপাশি আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, পাকিস্তানি গ্যাংস্টার শাহজাদ ভাট্টির সঙ্গে বিভিন্ন মাধ্যমে, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন বলে সন্দেহভাজন প্রায় ৬০০ জনের খোঁজ মিলেছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে মুম্বইয়ের কুরলা এলাকা থেকে সাজিদ মেহবুব শেখ ওরফে আরবাজ খান এবং মুম্ব্রা এলাকা থেকে তৌকির রিজওয়ান শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের দিল্লিতে এসে পরবর্তী নির্দেশ নেওয়ার কথা ছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হতো। যাতায়াত ও অন্যান্য কার্যকলাপের জন্য তাঁদের আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
কুরলা ও মুম্ব্রায় সমন্বিত অভিযানের পর এই চক্রের হদিস মেলে। তদন্তকারীদের দাবি, এই অভিযানে আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের নেটওয়ার্ক এবং পাকিস্তানের আইএসআই-এর মধ্যে সম্ভাব্য যোগসাজশের বিষয়টি সামনে এসেছে।
অভিযান চলাকালীন বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে কয়েকজন নেপালি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার মদতে এই নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছিল।
তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল পারমাণবিক স্থাপনা, বিমানবন্দর, রেলস্টেশন এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো।
পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রের ওপর দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি চালানো হচ্ছিল। এখন তাদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, অর্থের উৎস এবং বিদেশে থাকা পরিচালকদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার গোয়েন্দা সতর্কতার জেরে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ দফতর ও জনবহুল এলাকাগুলিকে লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা, গাড়িবাহিত আইইডি বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণ এবং সমন্বিত হামলার সম্ভাবনার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া গিয়েছিল।
ফলে সমস্ত জেলা পুলিশ ইউনিটকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও আধাসামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের মতে, বিদেশে অবস্থানকারী জঙ্গি পরিচালকেরা এখন এনক্রিপ্টেড অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় ‘স্লিপার সেল’-এর মাধ্যমে ভারতে নতুন সদস্য সংগ্রহ, উগ্রপন্থায় প্ররোচিত করা এবং নির্দেশ দেওয়ার কাজ করছে।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। সেই কারণেই এই অভিযানকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই ফরিদাবাদে একই ধরনের হামলার পরিকল্পনায় জড়িত একটি মডিউল ভেঙে দিয়েছিল নিরাপত্তা সংস্থাগুলি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার দিল্লি ও মুম্বইকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত হামলার ছক ভেস্তে দেওয়া হয়েছে।



















