নয়াদিল্লি, ৩০ মে (আইএএনএস): বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর অভিযোগ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বড় পরীক্ষাগুলি পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়ে কেন্দ্র দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং এর ফলে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি দিল্লি ও বেঙ্গালুরু-সহ একাধিক পরীক্ষাকেন্দ্রে টিসিএস পরিচালিত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে সিইউইটি-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটার খবর সামনে আসে। এর জেরে ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় দেওয়া এবং কিছু বিকেলের পরীক্ষার সময়সূচি পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)।
এর আগে নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের জেরে পরীক্ষা বাতিল করা হয়। পাশাপাশি সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক দেখা দেয়।
এই প্রেক্ষাপটে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ করা এক পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, “নিট, সিবিএসই, এসএসসি এবং আজ সিইউইটি। চারটি পরীক্ষা, এক কোটি ছাত্রছাত্রী। একটিও সততার সঙ্গে পরিচালিত হয়নি। ‘বিশ্বগুরু’ হওয়ার দাবি করা হয়, অথচ দেশে একটি পরীক্ষাও সুষ্ঠুভাবে নেওয়া যায় না। মোদীজি পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “যে প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট করা হচ্ছে, সেই প্রজন্মই একদিন এর জবাব চাইবে।”
নিট-ইউজি ২০২৬ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের পর পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ঘটনার ফলে দেশজুড়ে প্রায় ২৪ লক্ষ চিকিৎসাশাস্ত্রে ভর্তিচ্ছু পড়ুয়া প্রভাবিত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন ডিজিটাল ‘অন-স্ক্রিন মার্কিং’ (ওএসএম) পদ্ধতি চালু হওয়ার পর একাধিক সমস্যা সামনে আসে। একটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত এই ব্যবস্থায় উত্তরপত্রের অমিল, ঝাপসা স্ক্যান কপি, পৃষ্ঠা অনুপস্থিত থাকা এবং নম্বর প্রদানে অসঙ্গতির অভিযোগ ওঠে।
কিছু ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদেরও অপ্রত্যাশিতভাবে কম নম্বর বা ফেল দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ, যা অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পরীক্ষা সংক্রান্ত এই ধারাবাহিক বিতর্ক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদের জন্ম দিয়েছে এবং জাতীয় পরীক্ষাব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।



















