পাটনা, ৩০ মে (আইএএনএস): বিহারের রাজধানী পাটনার ১০ সার্কুলার রোডের সরকারি বাংলো নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। এই ইস্যুতে শাসক এনডিএ এবং বিরোধী দল রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বাকযুদ্ধ।
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিহার বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেতা রাবড়ি দেবী সরকারি বাসভবন খালি করতে অস্বীকার করেছেন বলে অভিযোগ ওঠার পরই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়।
এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিহার বিজেপির রাজ্য সভাপতি সঞ্জয় সারাওগি বলেন, বিহারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং রাজনৈতিক পরিচয় বা পদমর্যাদা যাই হোক না কেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।
তিনি বলেন, সরকারি আবাসন জনগণের সম্পত্তি, যা করদাতাদের অর্থে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় এবং নির্দিষ্ট সরকারি নিয়ম ও পদ্ধতি অনুসারেই বরাদ্দ করা হয়। সরকারি নির্দেশ অমান্য করা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সাংবিধানিক রীতিনীতির পরিপন্থী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সঞ্জয় সরাওগি অভিযোগ করেন, লালু প্রসাদ যাদব-এর পরিবারের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে এমন ধারণার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে যে রাজনৈতিক ক্ষমতা ও সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত অধিকারের মতো ব্যবহার করা যায়। বিহারের মানুষ বহু বছর ধরে এর পরিণতি দেখেছেন এবং এখন আর তা মেনে নিতে রাজি নন বলেও দাবি করেন তিনি।
রাবড়ী দেবীর অবস্থানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অবজ্ঞার পরিচয় বহন করে। “গণতন্ত্রে জনগণই সর্বোচ্চ। সরকারি নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। তাই আইন অনুযায়ী সরকারি বাসভবন খালি করতেই হবে,” বলেন বিজেপি নেতা।
একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনও দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তির জন্য বড় সরকারি আবাসন বরাদ্দ হওয়ায় কি রাবড়ী দেবীর আপত্তি রয়েছে? নাকি এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা কেবলমাত্র বিশেষ কিছু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত?
অন্যদিকে, সরকারের অবস্থানকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেছে আরজেডি।
উচ্ছেদ নোটিসের প্রতিক্রিয়ায় আরজেডি মুখপাত্র চিত্তরঞ্জন গগন অভিযোগ করেন, এনডিএ সরকার গণতান্ত্রিক শালীনতা ও রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ বিসর্জন দিয়েছে।
গগনের দাবি, রাবড়ী দেবী প্রায় দুই দশক ধরে ১০ সার্কুলার রোডের ওই বাসভবনে বসবাস করছেন। বর্তমানে তিনি শুধু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীই নন, বিধান পরিষদে বিরোধী দলনেতার দায়িত্বও পালন করছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাঁকে দ্রুত স্থানান্তর করার প্রয়োজনীয়তা কোথায়, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আরজেডি মুখপাত্র আরও বলেন, অতীতে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের জন্য নির্ধারিত সরকারি বাসভবন অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সেসব ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা করা সম্ভব হলে রাবড়ী দেবীর ক্ষেত্রে কেন তা সম্ভব নয়, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
গগনের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র একটি সরকারি বাংলোকে ঘিরে নয়; বরং এটি গণতান্ত্রিক রীতি-নীতি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান এবং সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধী নেতাদের প্রতি আচরণের সঙ্গে জড়িত।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, সুশাসনের জন্য স্বচ্ছতা ও নিয়মের সমান প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী নিয়মের ব্যাখ্যা করা উচিত নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
________



















