কলকাতা, ৩০ মে (আইএএনএস): রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের একাধিক সমস্যার সমাধানে জেলা হাসপাতালগুলির কাজকর্মে ‘লাইভ মনিটরিং’ চালু করার ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার বিধাননগরে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধী টিকাকরণ শিবিরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, চিকিৎসকদের ডিউটির সময় অনুপস্থিতি, অযথা রোগীদের কলকাতার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা এবং হাসপাতাল চত্বরে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য— এই তিনটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার মোকাবিলায় এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “জেলা হাসপাতালগুলির কাজকর্ম পর্যবেক্ষণের জন্য ২৪ ঘণ্টার একটি কন্ট্রোল রুম থাকবে। হাসপাতালগুলিতে যাতে কোনও দালালচক্র সক্রিয় না থাকে এবং কোনও রোগীকে অযথা রেফার না করা হয়, তা নিশ্চিত করতে পেশাদার কর্মী নিয়োগ করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের শূন্য-সহনশীলতা নীতি থাকবে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রোগী বা তাঁদের পরিবারের সদস্যরা নির্দিষ্ট কন্ট্রোল রুমের নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
এই নজরদারি ব্যবস্থা মূলত জেলা হাসপাতাল এবং রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে কার্যকর করা হবে। স্বাস্থ্য দফতরের সদর দফতর ‘স্বাস্থ্য ভবন’ থেকে গোটা ব্যবস্থার তদারকি করা হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ছয় কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। এই প্রকল্পটি পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের চালু করা ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের পরিবর্তে কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি জানান, উত্তরবঙ্গে প্রস্তাবিত অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস) গড়ে তোলার জন্য ইতিমধ্যেই জমি খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে।
এছাড়াও, পূর্ববর্তী সরকারের কাছ থেকে মাত্র ১ টাকায় জমি পাওয়া বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বাধ্যতামূলকভাবে বিনামূল্যের শয্যা (ফ্রি-বেড) ব্যবস্থা চালু করতে হবে বলেও তিনি জানান।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল শ্রেণির রোগীরা ওই হাসপাতালগুলিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ পাবেন।”



















