আগরতলা, ৩০ মে : গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন। এই পরিস্থিতিতে তৃষ্ণা মেটাতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে মানুষের ভরসা হয়ে উঠেছে ডাবের জল। ফলে তেলিয়ামুড়া বাজারে ডাবের চাহিদা এখন ঊর্ধ্বমুখী। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারের বিভিন্ন ডাবের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে সরবরাহ না থাকায় উদ্বেগে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তেলিয়ামুড়া ফল বাজারের প্রবীণ ডাব ব্যবসায়ী রাজু দাস জানান, গত ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে তিনি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। তাঁর মতে, চলতি বছরে ডাবের ফলন তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় বাজারের চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “ক্রেতার সংখ্যা অনেক বেড়েছে, কিন্তু পর্যাপ্ত ডাব সংগ্রহ করা যাচ্ছে না।” বর্তমানে ডাবের আকার ও মান অনুযায়ী প্রতিটি ৩০ টাকা থেকে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বাজারে ডাবের পাশাপাশি তালের শাঁসও বিক্রি হচ্ছে। তবে ক্রেতাদের আগ্রহ ডাবের তুলনায় অনেক কম। বর্তমানে ১০ থেকে ৩০ টাকা দরে তালের শাঁস বিক্রি হলেও কাঙ্ক্ষিত চাহিদা তৈরি হয়নি। বিক্রেতাদের মতে, গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে অধিকাংশ মানুষ ডাবের জলকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে তেলিয়ামুড়া ও ধর্মনগর এলাকায় ডাব ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ী গোপাল দেব জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি ডাব ৫০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন দামে বিক্রি করছেন। তাঁর কথায়, “ক্রেতার কোনও অভাব নেই, কিন্তু পর্যাপ্ত ডাব পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ সংকটের অন্যতম কারণ হলো বিভিন্ন এলাকায় নারকেল গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া। জমির ব্যবহার পরিবর্তন, নতুন বাড়িঘর নির্মাণ এবং অন্যান্য কারণে বহু পুরনো নারকেল গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে ডাবের যোগানও হ্রাস পেয়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, গ্রীষ্মের তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেলে আগামী কয়েক সপ্তাহে ডাবের চাহিদা আরও বাড়তে পারে। কিন্তু উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে বাজারে সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে তালের শাঁসের বাজার এখনও প্রত্যাশিত গতি না পাওয়ায় বিক্রেতারা বর্ষার আগে ক্রেতাদের আগ্রহ বৃদ্ধির অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্রচণ্ড গরমের এই সময়ে ডাব এখন শুধু একটি ফল নয়, বরং মানুষের কাছে স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে স্বস্তির অন্যতম ভরসা। তবে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ব্যবধান ভবিষ্যতে বাজারে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।



















