রাঁচি, ২৯ মে (আইএএনএস) : আগামী ১৮ জুন ঝাড়খণ্ডের দুইটি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার রাঁচিতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনে কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূলত আসন বণ্টন এবং প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।
সূত্রের খবর, বৈঠকে জোট প্রার্থীদের দুইটি আসনেই জয় নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হলেও আসন ভাগাভাগি বা প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়ে কোনও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঝাড়খণ্ডে কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কে. রাজু, সহ-দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. সিরিভেল্লা প্রসাদ, তেলঙ্গানার উপ-মুখ্যমন্ত্রী মল্লু ভাট্টি বিক্রমার্কা এবং ঝাড়খণ্ড প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি কেশব মাহতো কমলেশ।
কংগ্রেস নেতারা মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, জোটের রীতি অনুযায়ী একটি রাজ্যসভা আসন কংগ্রেসের প্রাপ্য। যদিও ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান স্পষ্ট করেনি। তবে দলের একাধিক শীর্ষ নেতা মত প্রকাশ করেছেন যে, দুইটি আসনেই জেএমএমের প্রার্থী দেওয়া উচিত।
এদিকে দুই দলেই সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। জেএমএমের তরফে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের স্ত্রী কল্পনা সোরেন, তাঁর বোন অঞ্জনি সোরেন, প্রাক্তন বিধায়ক কুণাল সারাঙ্গি এবং প্রাক্তন মন্ত্রী মিঠিলেশ ঠাকুরের নাম আলোচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের অন্দরেও প্রার্থী হওয়ার জন্য তৎপরতা বেড়েছে। সূত্রের খবর, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুবোধ কান্ত সহায়, প্রাক্তন প্রদেশ সভাপতি রাজেশ ঠাকুর, বর্তমান সভাপতি কেশব মাহতো কমলেশ, প্রাক্তন মন্ত্রী বান্না গুপ্ত, ফুরকান আনসারি, প্রদীপ বালমুচু এবং ধীরজ সাহুর মধ্যে একজনের নাম চূড়ান্ত হতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২০ সালের রাজ্যসভা নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে পরাজিত হওয়া প্রাক্তন কার্যকরী সভাপতি শাহজাদা আনোয়ারও ফের প্রার্থী হওয়ার দাবি জানিয়ে দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি লিখেছেন।
কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কে. রাজু স্পষ্ট জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচনে দল কোনও বহিরাগতকে প্রার্থী করবে না। ঝাড়খণ্ডের মাটি ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত কোনও স্থানীয় নেতাকেই প্রার্থী করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২২ মে নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছে যে ১০টি রাজ্যের মোট ২৪টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে অন্ধ্রপ্রদেশ, গুজরাট ও কর্নাটকে চারটি করে, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে তিনটি করে, ঝাড়খণ্ডে দুইটি এবং মণিপুর, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ ও মিজোরামে একটি করে আসনে ভোট হবে।



















