নয়াদিল্লি, ২৬ মে (আইএএনএস): অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে পূর্ব দিল্লির ময়ূর বিহারের ইন্দিরা ক্যাম্প এলাকায় একটি জুয়ার চক্রের হদিস পেল দিল্লি পুলিশ। অভিযানে মোট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযানের সময় ডিজিটাল মাধ্যমে জুয়ার টাকা সংগ্রহের জন্য ব্যবহৃত একটি কিউআর কোড, দুটি জুয়ার রেজিস্টার, দুটি ডায়েরি, হাতে লেখা বাজির স্লিপ এবং ৮,৮৯১ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে।
এই ঘটনায় দিল্লি পুলিশ-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ময়ূর বিহার থানায় দিল্লি পাবলিক গ্যাম্বলিং আইনের ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুরো চক্র এবং আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, পূর্ব জেলা পুলিশের অবৈধ জুয়া ও বাজি রোধে চলা বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিশেষ পুলিশ দল ময়ূর বিহারের ঝুপড়ি ইন্দিরা ক্যাম্প এলাকায় হানা দেয়। সেখানে গাজিয়াবাদ-সংক্রান্ত বাজির নম্বর নিয়ে অবৈধ জুয়ার আসর বসেছিল বলে অভিযোগ।
তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা রেজিস্টার ও ডায়েরিতে জুয়ার হিসাব রাখছিল এবং কিউআর কোডের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করা হচ্ছিল।
অভিযানটি পরিচালিত হয় এসিপি (অপারেশনস) পবন কুমারের তত্ত্বাবধানে এবং স্পেশাল স্টাফের ইনচার্জ ইনস্পেক্টর জিতেন্দ্র মালিকের নেতৃত্বে। দলে ছিলেন হেড কনস্টেবল হিমাংশু, নরেশ, কনস্টেবল রাজীব ও সানোজ।
পুলিশের দাবি, ২৩ মে গোপন সূত্রে প্রথম তথ্য আসে যে ইন্দিরা ক্যাম্প এলাকায় নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। এরপরই পরিকল্পনা করে অভিযান চালানো হয়।
হানার সময় অভিযুক্তরা পালানোর চেষ্টা করলেও পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে সকলকে আটক করে।
ধৃতদের অধিকাংশই পূর্ব দিল্লির ত্রিলোকপুরী ও আশপাশ এলাকার বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে কেউ চালক, কেউ রংমিস্ত্রি, দিনমজুর, কাগজকুড়ানি, হকার, ইলেকট্রিকের কাজ কিংবা পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে কাজ করেন। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন প্রবীণও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ এখন এই চক্রের মূল পরিচালকদের খোঁজ করছে। ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আরও কেউ জড়িত কি না তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



















