নয়াদিল্লি, ২৭ মে (আইএএনএস): মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিমান জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে যাওয়ায় খরচ কমাতে জুন থেকে অগস্টের মধ্যে একাধিক অভ্যন্তরীণ রুটে উড়ানের সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া। বুধবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে টাটা গোষ্ঠীর মালিকানাধীন বিমান সংস্থাটি।
এর আগে আন্তর্জাতিক রুটের কিছু পরিষেবাও সাময়িকভাবে কমানোর ঘোষণা করেছিল এয়ার ইন্ডিয়া। সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “জুন থেকে অগস্টের মধ্যে নির্বাচিত আন্তর্জাতিক পরিষেবায় পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় একই সময়ে কিছু অভ্যন্তরীণ রুটেও সাময়িকভাবে উড়ানের সংখ্যা কমানো হয়েছে।”
ক্ষতি কমানোর চাপে থাকা এয়ার ইন্ডিয়া প্রায় ২০ শতাংশ অভ্যন্তরীণ উড়ান কমাতে পারে বলে জানা গিয়েছে। এর ফলে জ্বালানি খরচ কমবে। বিমান সংস্থার মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশই জ্বালানির পিছনে ব্যয় হয়।
এয়ার ইন্ডিয়ার এক আধিকারিক জানান, ইরান যুদ্ধের আগে সংস্থার বিমান জ্বালানির দাম প্রতি কিলোলিটারে প্রায় ৮০ হাজার টাকা ছিল। বর্তমানে তা বেড়ে ১ লক্ষ টাকারও বেশি হয়েছে। ফলে কিছু রুটে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়া আর আর্থিকভাবে লাভজনক থাকছে না।
উল্লেখ্য, বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাটের হারের তারতম্যের কারণে বিমান জ্বালানির দামও আলাদা হয়।
বিমান সংস্থার আধিকারিকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক উড়ান কমে যাওয়ায় দিল্লি ও মুম্বইয়ের মতো কেন্দ্রগুলিতে সংযোগকারী অভ্যন্তরীণ উড়ানের চাহিদাও কমেছে। এটিও কিছু উড়ান বাতিলের অন্যতম কারণ।
বর্তমানে এয়ার ইন্ডিয়া সপ্তাহে প্রায় ৪,৪০০টি উড়ান পরিচালনা করে। এর মধ্যে প্রায় ৩,৬০০টি অভ্যন্তরীণ এবং ৮০০টি আন্তর্জাতিক পরিষেবা।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি এবং যাত্রী চাহিদার উপর নজর রাখা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিষেবা পুনরায় বাড়ানো হবে।
যে যাত্রীরা এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হবেন, তাঁদের বিকল্প উড়ান, বিনামূল্যে তারিখ পরিবর্তন অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুবিধা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থা।
খবর অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে এয়ার ইন্ডিয়ার ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬,৮০০ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ১২ গুণ বেশি। ফলে সংস্থায় অতিরিক্ত অর্থ বিনিয়োগের চাপ পড়তে পারে টাটা গোষ্ঠীর উপর।



















