নয়াদিল্লি, ২৩ মে (আইএএনএস): ভারতীয় মহিলা কুস্তিগীর ভিনেশ ফোগাটকে এশিয়ান গেমস ২০২৬-এর নির্বাচনী ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার অনুমতি দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মাতৃত্বকে কোনওভাবেই “অক্ষমতা” বা পেশাগত সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার কারণ হিসেবে দেখা যায় না।
প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ রেসলিং ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডব্লিউএফআই)-এর নির্বাচনী নীতির সমালোচনা করে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৩০ ও ৩১ মে অনুষ্ঠিত ট্রায়ালে ভিনেশকে অংশ নিতে দিতে হবে। পাশাপাশি গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ভিডিও রেকর্ডিং করারও নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছে, মাতৃত্ব জীবনের একটি স্বাভাবিক এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই মহিলা ক্রীড়াবিদদের ক্ষেত্রে এটি কখনও বঞ্চনা বা প্রান্তিককরণের কারণ হতে পারে না।
সিঙ্গল বেঞ্চের বিচারপতির অন্তর্বর্তী নির্দেশের বিরুদ্ধে ভিনেশ ফোগাটের করা আবেদনের শুনানিতে আদালত জানায়, তিনবারের অলিম্পিয়ান কুস্তিগীর ডব্লিউএফআই-এর এশিয়ান গেমস নির্বাচন নীতির বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে যথেষ্ট যুক্তি তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন।
ডব্লিউএফআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিযোগিতায় পদকজয়ীরাই ট্রায়ালে অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু আদালত জানায়, এই নীতিতে মাতৃত্বজনিত বিরতি এবং সন্তান জন্মের পর পুনরুদ্ধারের সময়কালকে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, বর্তমান ক্ষেত্রে আবেদনকারীর নির্বাচনী ট্রায়াল থেকে বাদ পড়ার মূল কারণ তাঁর মাতৃত্বজনিত বিরতি এবং সাময়িক অবসর।
আদালত ডব্লিউএফআই-এর জারি করা শোকজ নোটিসের ভাষারও কড়া সমালোচনা করে। বিশেষ করে, প্যারিস অলিম্পিক ২০২৪-এর ফাইনালে ওজন পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়ে ভিনেশের অযোগ্য ঘোষণাকে “জাতীয় লজ্জা” বলে উল্লেখ করাকে আদালত “অত্যন্ত নিন্দনীয়” বলে মন্তব্য করেছে।
আদালত জানায়, এই মন্তব্যগুলি “পূর্বপরিকল্পিত” এবং “প্রতিহিংসাপরায়ণ” বলেই মনে হচ্ছে, বিশেষ করে যখন কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস) ইতিমধ্যেই জানিয়েছে যে ভিনেশের কোনও ভুল ছিল না।
ডিভিশন বেঞ্চ আরও বলেছে, গর্ভাবস্থা এবং সন্তান জন্ম দেওয়া মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য অসাধারণ শারীরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। তাই ক্রীড়া সংক্রান্ত নীতিমালায় এই বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা যায় না।
আদালত সংবিধানের ১৪ এবং ২১ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে জানিয়েছে, গর্ভাবস্থা বা সন্তান জন্মের পর পুনরুদ্ধারের কারণে কোনও নারীকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অসুবিধায় ফেলা বৈষম্যমূলক এবং সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী।
ডব্লিউএফআই-এর আগের নিয়মাবলীর প্রসঙ্গ টেনে আদালত জানায়, অতীতে “আইকনিক প্লেয়ার”-দের ক্ষেত্রে সাধারণ যোগ্যতার নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সেই তুলনায় নতুন নীতিকে “উল্লেখযোগ্য বিচ্যুতি” এবং প্রাথমিকভাবে “খামখেয়ালি” বলে মনে হচ্ছে।
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ (এসএআই) এবং ভারতীয় অলিম্পিক সংস্থা (আইওএ)-র পক্ষ থেকে দু’জন স্বাধীন পর্যবেক্ষক ট্রায়াল প্রক্রিয়া তদারকি করবেন এবং রিপোর্ট জমা দেবেন।
তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, মামলার মূল বিষয়ে এখনও কোনও চূড়ান্ত মতামত দেওয়া হয়নি। ডব্লিউএফআই-এর নীতি, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং শোকজ নোটিসের বৈধতা সংক্রান্ত সমস্ত প্রশ্নের নিষ্পত্তি হবে বিচারাধীন মূল মামলায়।
ভিনেশ ফোগাট তাঁর আবেদনে দাবি করেছিলেন, মাতৃত্বজনিত বিরতির বিষয়টি আন্তর্জাতিক টেস্টিং এজেন্সি (আইটিএ), ইউনাইটেড ওয়ার্ল্ড রেসলিং (ইউডব্লিউডব্লিউ) এবং এসএআই-কে জানানো সত্ত্বেও তাঁকে ২৬ জুন ২০২৬ পর্যন্ত ডব্লিউএফআই-এর প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
শুনানিতে ডব্লিউএফআই দাবি করেছিল, নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য এবং কাউকে আলাদা ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা ফেডারেশনের নেই। তবে আদালত জানায়, যদি ভিনেশকে আসন্ন ট্রায়ালে অংশ নিতে না দেওয়া হয়, তাহলে বিচারাধীন মামলাটিই অর্থহীন হয়ে পড়বে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, খেলাধুলা এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে আবেদনকারীকে নির্বাচনী ট্রায়ালে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া জরুরি।



















