ভোপাল, ২৩ মে (আইএএনএস) : ত্বিশা শর্মার কথিত পণপ্রথা-জনিত মৃত্যুর মামলায় তাঁর স্বামী সর্মথ সিং-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করবে ভোপাল পুলিশ। শনিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই তথ্য জানান ভোপাল পুলিশ কমিশনার ।
পুলিশ কমিশনার জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় জবলপুর থেকে হেফাজতে নেওয়ার পর গভীর রাতে সমর্থ সিংকে ভোপালে নিয়ে আসা হয়।
তিনি বলেন, “প্রথমে তাঁর মেডিক্যাল পরীক্ষা করানো হবে এবং আদালতে পিআর দাখিল করা হবে। এরপর আমরা ৭ দিনের রিমান্ড চাইব। তাঁকে গভীর রাতে আনা হয়েছে। কিছু প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে। আরও জিজ্ঞাসাবাদের পরই বিস্তারিত কিছু বলা সম্ভব হবে।”
কমিশনার আরও সতর্ক করে বলেন, গত ১০ দিন ধরে সমর্থ সিং পলাতক থাকার সময় যদি কেউ তাঁকে আশ্রয় দিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “তদন্তে যদি সামনে আসে কেউ তাঁকে লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করেছে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জবলপুর জেলা আদালতে শুক্রবারের ঘটনাপ্রসঙ্গে সঞ্জয় সিং জানান, সমর্থ সিং আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু আদালত তা অনুমোদন করেনি।
কমিশনারের কথায়, “তিনি জবলপুর আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য গিয়েছিলেন, কিন্তু আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের অনুমতি দেয়নি। সেই সময় আমাদের দলও সেখানে উপস্থিত ছিল। পরে জবলপুর পুলিশের সহায়তায় তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়।”
উল্লেখ্য, গত ১২ মে ভোপালের বাগ মুগালিয়া এক্সটেনশনে শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ত্বিশা শর্মার দেহ। ঘটনার পর থেকেই সমর্থ সিং নিখোঁজ ছিলেন।
এদিকে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার অনিল শর্মা। তিনি জানান, তদন্ত সম্পূর্ণ আইন মেনেই করা হয়েছে এবং পুলিশের তরফে কোনও অবহেলা হয়নি।
তিনি বলেন, “এই মামলায় কোনও রকম ঢিলেমি করা হয়নি। তদন্তে প্রভাবশালী ও সাধারণ উভয় পক্ষই থাকতে পারেন, কিন্তু পুলিশ সর্বদা আইন ও নির্ধারিত পদ্ধতি মেনেই কাজ করে।”
অতিরিক্ত ডিসিপি আরও জানান, সমর্থ সিংকে খুঁজে বের করতে ভোপাল পুলিশ জবলপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে অভিযান চালায়।
যদিও ভোপাল পুলিশের দাবি, সমর্থ সিংকে জবলপুর জেলা আদালত চত্বর থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে, তাঁর আইনজীবীর দাবি তিনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।


















