নয়াদিল্লি, ২২ মে (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলাইডস-এর মধ্যে শুক্রবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি) বা আইএমইসি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। দুই নেতা একমত হন যে, এই উদ্যোগ বিশ্ব বাণিজ্য, সংযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
শুক্রবার প্রেসিডেন্টের ভারত সফর নিয়ে এক বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের পশ্চিম বিভাগের সচিব সিবি জর্জ জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং সাইপ্রাসের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘সংযোগ ব্যবস্থা’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। এই উদ্দেশ্যে ভারত ও সাইপ্রাস একটি দ্বিপাক্ষিক ‘কানেক্টিভিটি ডায়ালগ’ চালু করেছে বলেও তিনি জানান।
আইএমইসি নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে সিবি জর্জ বলেন, “এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। দুই নেতা স্বীকার করেছেন, বিশ্ব বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সমৃদ্ধিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের অসাধারণ সম্ভাবনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, ভারত থেকে বৃহত্তর পশ্চিম এশিয়া হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত সংযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত জি২০ নেতাদের শীর্ষ সম্মেলন-এর পার্শ্ব বৈঠকে ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি এবং আমেরিকার নেতারা আইএমইসি গড়ে তোলার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছিলেন।
আইএমইসি-র দুটি অংশ থাকবে— পূর্ব করিডর, যা ভারতকে উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করবে এবং উত্তর করিডর, যা উপসাগরীয় অঞ্চলকে ইউরোপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে।
এই করিডরের লক্ষ্য হলো সংযোগ বাড়ানো, পরিবহণের খরচ কমানো, সরবরাহ ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা, বাণিজ্য সহজ করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে এশিয়া, ইউরোপ এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক সমন্বয়ের নতুন অধ্যায় শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাংবাদিক বৈঠকে সিবি জর্জ আরও জানান, প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টোডৌলিদেসের ভারত সফর ভারত-সাইপ্রাস সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দুই দেশ ২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে এবং সেই উপলক্ষে দুই দেশেই নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।
এছাড়া এই সফরে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর স্তরে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং একাধিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।



















