ঢাকা, ২২ মে (আইএএনএস): বাংলাদেশে হামের প্রকোপ ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম এবং হাম-সদৃশ উপসর্গে আরও ১১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৯-এ।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নতুন মৃতদের মধ্যে নয়টি মৃত্যু হাম-সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, আর দুটি ক্ষেত্রে হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৪১৪টি সন্দেহভাজন এবং ৮৫টি নিশ্চিত হাম-জনিত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে নতুন করে ১,২৬১টি সন্দেহভাজন হামের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ফলে মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬০,৫৪০। একই সময়ে ৫৪টি নতুন নিশ্চিত হামের ঘটনা সামনে এসেছে। বর্তমানে মোট নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৮,৩২৯।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৪৭,৫১১ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৪৩,৪১১ জন ইতিমধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠেছেন।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার মধ্যে ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা আগেই বাংলাদেশ সরকারকে টিকার ঘাটতি নিয়ে একাধিকবার সতর্ক করেছিল।
ঢাকায় এক সাংবাদিক বৈঠকে ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফুল জানান, ২০২৪ সাল থেকেই সংস্থাটি বারবার লিখিতভাবে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে টিকার সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল।
তিনি দাবি করেন, ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি চিঠি পাঠানো হয় এবং অন্তত ১০টি বৈঠকে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। তবে সময়মতো টিকা সংগ্রহের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ইউনিসেফ আরও জানিয়েছে, হামের এই প্রাদুর্ভাব নিয়ে শুরু হওয়া তদন্তে তারা প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ দিয়ে সহায়তা করবে।



















