নয়াদিল্লি, ২২ মে (আইএএনএস): পশ্চিম এশিয়ার অনিশ্চয়তা এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির চাপ সত্ত্বেও চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থিতিশীল থেকেছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (আরবিআই)-এর মাসিক বুলেটিন।
শুক্রবার প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, শিল্প ও পরিষেবা ক্ষেত্রের একাধিক অংশে ইতিবাচক গতি বজায় ছিল। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে তালিকাভুক্ত বেসরকারি অ-আর্থিক সংস্থাগুলির প্রাথমিক ফলাফলও আগের ত্রৈমাসিকের তুলনায় উন্নত ব্যবসায়িক পারফরম্যান্সের ইঙ্গিত দিয়েছে।
আরবিআই জানিয়েছে, সংস্থাগুলির মোট বিক্রি এবং পরিচালন মুনাফা— উভয় ক্ষেত্রেই দুই অঙ্কের বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রের প্রসঙ্গে বুলেটিনে বলা হয়েছে, স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি এবং জলাধারে পর্যাপ্ত জল মজুত থাকায় গ্রীষ্মকালীন চাষের কাজ দ্রুত এগিয়েছে।
তবে দেশের কিছু অংশে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ন্যূনতম তাপমাত্রা এবং অকাল বৃষ্টির সম্ভাবনা বাকি রবি শস্য কাটার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছে আরবিআই।
এছাড়া খাদ্যশস্যের সরকারি মজুত বর্তমানে নির্ধারিত বাফার মানের তুলনায় অনেক বেশি থাকায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসে পরপর দ্বিতীয়বারের জন্য নিট বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) ইতিবাচক ছিল।
অন্যদিকে, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা এপ্রিল ও মে মাসে বিক্রেতা হিসেবেই থেকেছেন, যদিও মূলধন বেরিয়ে যাওয়ার গতি কিছুটা কমেছে।
খুচরো মূল্য সূচকভিত্তিক মুদ্রাস্ফীতি (সিপিআই) এপ্রিল মাসে বেড়ে ৩.৫ শতাংশে পৌঁছেছে। মূলত খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণেই এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। যদিও মূল বা ‘কোর’ মুদ্রাস্ফীতি স্থিতিশীল ছিল।
আরবিআইয়ের মতে, সামগ্রিক মূল্যবৃদ্ধি এখনও নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব দেশীয় দামে কতটা পড়ছে, তা নজরে রাখা প্রয়োজন।
বুলেটিনে আরও বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাব পণ্য বাজার, বিশ্ব বাণিজ্য এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর চাপ সৃষ্টি করছে, যার ফলে আর্থিক বাজারেও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে।
তবে ভারতের সামষ্টিক অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত অবস্থায় রয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদাই এখনও প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি।
আরবিআই জানিয়েছে, পরিষেবা খাতে শক্তিশালী রফতানি, ইতিবাচক এফডিআই প্রবাহ, বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার এবং সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বিভিন্ন নীতিগত পদক্ষেপ ভারতীয় অর্থনীতিকে আন্তর্জাতিক চাপ মোকাবিলায় সহায়তা করবে।



















