নয়াদিল্লি, ১৫ মে (আইএএনএস): দিল্লির পূর্ব জেলা পুলিশ এক সোনার কারিগরকে লক্ষ্য করে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনার কিনারা করে পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের মধ্যে দু’জন মূল অভিযুক্ত এবং তিনজন সহযোগী বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্তদের কাছ থেকে প্রায় ২৫০ গ্রাম ওজনের ২১টি ছিনতাই হওয়া সোনার চেন এবং ২.৩১ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, লুট হওয়া সম্পত্তির প্রায় ৯০ শতাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩ মে রাত প্রায় ১০টা ৩০ মিনিট নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। সুকুমার ধাড়া নামে এক স্বর্ণকার, যিনি গত ২২ বছর ধরে মান্ডাওয়ালিতে ব্যবসা করছেন, দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় দুই সশস্ত্র দুষ্কৃতী তাঁর পথ আটকায় এবং তাঁর স্কুটি ছিনতাই করে পালিয়ে যায়।
স্কুটিতে ২৩টি সোনার চেন, কিছু সোনার গয়না, ৩ লক্ষ টাকা নগদ এবং একটি মোবাইল ফোন ছিল বলে জানা গিয়েছে।
ঘটনার পর ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রীত বিহার থানায় মামলা দায়ের হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্ব জেলার স্পেশাল স্টাফ এবং প্রীত বিহার থানার যৌথ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধস্থলে কোনও সিসিটিভি ক্যামেরা না থাকায় তদন্তকারীদের গত ১০ দিনে বিভিন্ন রুটে থাকা ৬০০-রও বেশি সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে হয়।
তদন্তে দেখা যায়, অভিযুক্তরা বিকাশ মার্গ, দিল্লি-দেরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে, সিগনেচার ব্রিজ, ভজনপুরা ও ঘোন্ডা হয়ে পালিয়ে যায়। পরে উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ এলাকায় তাদের লুকানোর জায়গার সন্ধান পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, নজরদারি এড়াতে অভিযুক্তরা একাধিক কৌশল নেয়। তারা ছিনতাই করা স্কুটি ফেলে দেয়, তিনবার পোশাক পরিবর্তন করে, বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে এবং মোবাইল ফোন একটি চলন্ত গাড়িতে ছুড়ে ফেলে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করে।
ধৃতদের পরিচয়— বিজয় কুমার (৩০), সুনীল (৩৫), অর্জুন (২৬), আনন্দ (২১) এবং হরিশ (৪২)। পুলিশ জানিয়েছে, বিজয় ও সুনীল মূল ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ছিল। অর্জুন ও আনন্দ রেকি করেছিল এবং হরিশ তথ্যদাতার ভূমিকা পালন করেছিল।
এছাড়াও পুলিশ লুট হওয়া গয়নার ব্যাগ, ফ্লুরোসেন্ট জ্যাকেট, ঘটনার সময় পরা পোশাক, হেলমেট এবং পিঠের ব্যাগও উদ্ধার করেছে।
পূর্ব জেলার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমার জানান, ধারাবাহিক সিসিটিভি বিশ্লেষণ, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং মাঠপর্যায়ের সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমেই এই মামলার সমাধান সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে।


















