কলকাতা, ১২ মে (আইএএনএস): বর্তমান বিজেপি-শাসিত পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করলেই কি হিংসা, নির্যাতন ও মৃত্যুর মুখে পড়তে হবে, মঙ্গলবার এমনই প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী।
সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করে তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী হিংসায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়লেও ন্যায়বিচারের দাবি বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনার সপ্তগ্রামের তৃণমূল কর্মী সোমনাথ ভট্টাচার্য এবং নদিয়ার চাকদহের তপন শিকদারকে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতীরা নৃশংসভাবে মারধর করে। পরে তাঁদের মৃত্যু হয়।
নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, শোকস্তব্ধ পরিবারগুলির একটাই প্রশ্ন, বিজেপির শাসনে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসকে সমর্থন করলেই কি এখন হিংসা, নির্যাতন ও মৃত্যুর শিকার হতে হবে? তিনি আরও দাবি করেন, এই পরিস্থিতিতেও পুলিশ নিষ্ক্রিয়, আদালত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে এবং বিজেপি নেতারা নির্বাচনী জয় উদযাপনে ব্যস্ত রয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, যখন বাংলায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর পরবর্তী বিদেশ সফরের পরিকল্পনায় ব্যস্ত এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কার্যত “নিখোঁজ”। তিনি আরও লেখেন, এই লজ্জাজনক নীরবতার মধ্যেই সাধারণ মানুষ বিজেপির হিংসা, প্রতিহিংসা ও চরম আইনশৃঙ্খলাহীন রাজনীতির ফল ভোগ করছেন।
৪ মে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর, যেখানে তৃণমূলের ভরাডুবি হয়, তার পর থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজনৈতিকভাবে খুব বেশি সক্রিয় দেখা যায়নি। মূলত সামাজিক মাধ্যমেই তিনি প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছেন। তবে আগের তুলনায় তাঁর পোস্টের সংখ্যাও কমেছে বলে রাজনৈতিক মহলের পর্যবেক্ষণ।
এদিকে সোমবার শুভেন্দু অধিকারী সরকারের তরফে তাঁর ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা প্রত্যাহারের ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবর্তে তাঁকে সাধারণ সাংসদদের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অতিরিক্ত নিরাপত্তারক্ষী ও বিশেষ পাইলট গাড়ির সুবিধা আর পাবেন না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, যা পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের সময় তিনি ভোগ করতেন।



















