ঢাকা, ১২ মে (আইএএনএস): বাংলাদেশে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অন্তত ১৩টি বার অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে প্রায় ২০০ আওয়ামি লিগপন্থী আইনজীবীকে প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আইনজীবী সংগঠনের সদস্যদের উদ্ধৃত করে মঙ্গলবার এমনই দাবি করেছে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম।
অভিযোগ, অনেক আইনজীবী নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়তে চাইলেও তাঁদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও বার অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ সরাসরি তাঁদের মনোনয়ন বাতিল করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই আগামী ১৩ ও ১৪ মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন (এসসিবিএ)-এ। বর্তমান এসসিবিএ নির্বাচনে ৯০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪২ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। অভিযোগ, তাঁদের আওয়ামি লিগের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে।
বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মঞ্জিল মুর্শিদ বলেন, “আওয়ামি লিগপন্থী আইনজীবীদের পাশাপাশি ১৪ দলীয় জোট ও কিছু নির্দল প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি এখন আর শুধু একটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি পেশাগত সংগঠনের গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।”
এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, “পেশাগত সংগঠনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার সরাসরি মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত।”
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “আমাদের সকলেরই পেশাগত উৎকর্ষতার জন্য কাজ করা উচিত। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশ প্রয়োজন।”
গত সপ্তাহেও চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গিয়ে আওয়ামি লিগপন্থী আইনজীবীরা বাধা ও হামলার অভিযোগ তোলেন বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের বিরুদ্ধে। ৪ মে ‘সাধারণ আইনজীবী পরিষদ’-এর ব্যানারে প্রার্থী –এর নেতৃত্বে একদল আইনজীবী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে এই ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক মতাদর্শের ভিত্তিতে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও মনোনয়ন বাতিলের এই প্রবণতা আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে জানা গিয়েছে।



















