কলকাতা, ৪ মে: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে ঐতিহাসিক সাফল্যের মুখ দেখল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। প্রাথমিক প্রবণতা থেকেই এগিয়ে থাকার পর শেষ পর্যন্ত স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাজ্যে প্রথমবার সরকার গঠনের পথে এগিয়ে গেল গেরুয়া শিবির।
২৯৪টি আসনের মধ্যে ভোটগ্রহণ হয় ২৯৩টি কেন্দ্রে। ফলাফলে বিজেপি প্রায় ২০০-র কাছাকাছি আসনে জয় বা এগিয়ে থেকে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) বড় ধাক্কা খেয়েছে এবং চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে।
সবচেয়ে নাটকীয় লড়াই দেখা যায় কলকাতার ভবানীপুর কেন্দ্রে। এখানে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ১৫ হাজার ভোটে পরাজিত করেছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও মমতার বিরুদ্ধে জয় পেলেন শুভেন্দু। তিনি নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়েছেন।
ভোটগণনার দিন ভবানীপুরে টানটান উত্তেজনা ছিল। কখনও মমতা এগিয়ে, কখনও শুভেন্দু—এই ওঠানামার মধ্যেই শেষ পর্যন্ত বিজেপি প্রার্থীই এগিয়ে যান এবং জয় নিশ্চিত করেন।
নির্বাচনের আগে দুই দফায় ভোটগ্রহণ (২৩ ও ২৯ এপ্রিল) ঘিরে একাধিক হিংসার ঘটনা সামনে আসে। ইভিএমে কারচুপির অভিযোগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার ও মগ্রাহাট পশ্চিমের ১৫টি বুথে পুনর্ভোটও হয় ২ মে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি, ভোটার তালিকা যাচাই প্রক্রিয়া, এবং ভোটের দিন নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি—সব মিলিয়ে ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি বিজেপির সংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাঙ্ক সংহতকরণও এই জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
দিল্লিতে বিজেপি নেতৃত্ব এই জয়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি মানুষের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। দলের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” গঠনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত উন্নয়ন ও শিল্পায়নের পথে এগোনো হবে।
এদিকে, বিজেপি শিবিরে এখন মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। দলের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, একজন বাঙালিকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হবে। সম্ভাব্য মুখ হিসেবে একাধিক নেতার নাম ঘুরছে।
অন্য রাজ্যগুলিতেও বিজেপির সাফল্য অব্যাহত রয়েছে। অসমে টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পথে দল। তবে কেরলে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ জোট বড় জয় পেয়েছে এবং তামিলনাড়ুতে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহাসিক রায়।



















