নয়াদিল্লি, ১৩ আগস্ট (আইএএনএস): ভারতকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চারটি উচ্চ সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে নীতি আয়োগ। এগুলি হল—রাসায়নিক শিল্প, বস্ত্র ও পোশাক, টেলিকম ও নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম এবং সোলার ফোটোভোলটাইক উৎপাদন।
‘ভারতকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মূল খাতসমূহ’ শীর্ষক নীতি আয়োগের প্রতিবেদনে বিশ্ব উৎপাদন শিল্পের প্রবণতা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধির সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে ভারতের উৎপাদন পরিকাঠামোর তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উৎপাদন ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে প্রভাবিত করে এমন বাজারের সম্ভাবনা, পরিকাঠামোর প্রস্তুতি, নীতি সহায়তা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং আন্তর্জাতিক ভ্যালু চেনে ভারতের অবস্থান-সহ বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হয়েছে।
নীতি আয়োগ জানিয়েছে, যে ক্ষেত্রগুলিতে ভারতের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে এবং যেখানে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো, প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা ও মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি এবং রফতানিমুখী উৎপাদন ত্বরান্বিত করা সম্ভব, সেই ক্ষেত্রগুলিই চিহ্নিত করাই এই প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রতিবেদনের পরবর্তী সংস্করণে আরও আটটি ক্ষেত্র নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ করা হবে।
ভারতের রাসায়নিক শিল্প মূলত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের ওপর নির্ভরশীল—পেট্রোকেমিক্যাল ও অর্গানিক কেমিক্যাল, স্পেশালিটি কেমিক্যাল এবং ইনঅর্গানিক কেমিক্যাল। এর মধ্যে পেট্রোকেমিক্যাল ও অর্গানিক কেমিক্যাল সবচেয়ে বড় অংশ, যেখানে পলিমার, সিন্থেটিক ফাইবার, পারফরম্যান্স প্লাস্টিক, বিভিন্ন ইন্টারমিডিয়েট ও চূড়ান্ত পণ্য অন্তর্ভুক্ত।
নীতি আয়োগের মতে, ডাউনস্ট্রিম উৎপাদন বাড়ানো এবং কাঁচামালের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করে রাসায়নিক শিল্পে দেশীয় মূল্য সংযোজন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। দেশীয় উৎপাদন উৎসাহিত করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বিনিয়োগ এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিগুলিকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে ডাউনস্ট্রিম সক্ষমতা ও শিল্পের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধি নিশ্চিত করা যাবে।
ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন ক্ষেত্র বস্ত্র ও পোশাক শিল্প। দেশের মোট জিডিপি-তে এই শিল্পের অবদান প্রায় ২ শতাংশ, উৎপাদন ক্ষেত্রে মোট মূল্য সংযোজনে ১১ শতাংশ এবং পণ্য রফতানিতে ৯ শতাংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাঁচামালের প্রাপ্যতা বাড়ানো, পরিকাঠামোগত সহায়তার মাধ্যমে উৎপাদনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং আরও গভীর বাণিজ্যিক সংযুক্তির মাধ্যমে বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়িয়ে ভারতের বস্ত্র শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা সম্ভব।
ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম টেলিকম বাজার। দেশে ১.২ বিলিয়নেরও বেশি গ্রাহক রয়েছে, টেলিকম পরিষেবার আওতা প্রায় ৮৫ শতাংশ এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ।
নীতি আয়োগের মতে, দেশীয় উৎপাদনে আরও বেশি উপাদান তৈরি ও স্থানীয়করণ বাড়ানোর মাধ্যমে টেলিকম ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সম্ভব। যৌথ উদ্যোগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর, সমন্বিত শিল্প ক্লাস্টার গড়ে তোলা, উচ্চ সম্ভাবনাময় রফতানি ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পরীক্ষণ, সার্টিফিকেশন ও দক্ষতা উন্নয়নে জোর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
ভারতের সৌর উৎপাদন পরিকাঠামোতেও দেশীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আপস্ট্রিম সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং আমদানিনির্ভরতা কমানোকে এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছে নীতি আয়োগ।
প্রতিবেদনে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্ব ও যৌথ উদ্যোগ, গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মদক্ষতা-ভিত্তিক সহায়তা, সমন্বিত ক্লিন-টেক শিল্প ক্লাস্টার এবং শিল্পের নেতৃত্বে দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক অংশীদারিত্ব এবং সরকার-থেকে-সরকার কাঠামো শক্তিশালী করলে ভারতের সৌর উৎপাদন পণ্যের রফতানি ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ আরও বাড়বে বলে জানিয়েছে নীতি আয়োগ।



















