আহমেদাবাদ, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতীয় রেলে ডিজেলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং দ্রুতগতিতে বেড়েছে রেলপথের বিদ্যুতায়ন। রবিবার সাবরমতীতে একটি রেলওয়ে অনুষ্ঠানে এই পরিবর্তনের কথা তুলে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
অমিত শাহ বলেন, ২০১৫-১৬ সালে রেল পরিচালনায় ২৯৩ কোটি লিটার ডিজেল ব্যবহার হলেও ২০২৪-২৫ সালে তা কমে হয়েছে ১০৮ কোটি লিটার। ভবিষ্যতে রেলের ট্র্যাকশন ব্যবস্থায় ডিজেলের ব্যবহার সম্পূর্ণ শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।
রেল মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ থেকে ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে রেলের ট্র্যাকশনে ডিজেল খরচ ১৮৫ কোটি লিটার কমেছে। মন্ত্রকের মতে, এর প্রধান কারণ বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনের দ্রুত সম্প্রসারণ।
রেলপথের বিদ্যুতায়নের গতিও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, ২০১০-১১ সালে বছরে মাত্র প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রেলপথ বিদ্যুতায়িত হলেও ২০২৩-২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭,১৮৮ কিলোমিটার। ভারত রেলপথের প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুতায়নের পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রেল মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডে রেলপথের বিদ্যুতায়ন ১০০ শতাংশ, ভারতে ৯৯.৬ শতাংশ, চিনে ৮২ শতাংশ, স্পেনে ৬৭ শতাংশ, ফ্রান্সে ৬০ শতাংশ এবং ব্রিটেনে ৩৯ শতাংশ।
অমিত শাহ আরও জানান, রেলের নিরাপত্তা খাতে বাজেট ৬৭ শতাংশ এবং লোকোমোটিভ উৎপাদন ক্ষমতা ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বায়ো-টয়লেট এবং এলএইচবি কোচ উৎপাদনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের সময়ে রেলের ৯৭ শতাংশ বায়ো-টয়লেট এবং ৮৭ শতাংশ এলএইচবি কোচ উৎপাদন সম্পন্ন হয়েছে।
গুজরাটে রেল খাতে বিনিয়োগের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ২০০৯-১৪ সালে গুজরাট বছরে গড়ে ৫৮৯ কোটি টাকা রেল বরাদ্দ পেলেও ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে রাজ্যটির জন্য রেল বরাদ্দ করা হয়েছে ১৭,৩৬৬ কোটি টাকা।
অমিত শাহ এই পরিবর্তনের জন্য মোদি সরকারের বিদ্যুতায়ন, দেশীয় উৎপাদন এবং রেল পরিকাঠামোর সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দেওয়াকে দায়ী করেন। তাঁর বক্তব্য, পরিসংখ্যানগুলি রেল ক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও আধুনিকীকরণের পরিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
–আইএএনএস



















