গ্রেটার নয়ডা, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ-র মাধ্যমে ভারতের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার আরও উন্মুক্ত হলে ২০৩০ সালের মধ্যে উত্তরপ্রদেশের বার্ষিক রফতানি ২ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছতে পারে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল।
রবিবার গ্রেটার নয়ডায় ইউপি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড শো-তে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গোয়েল বলেন, রফতানি বৃদ্ধি, বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকার উত্তরপ্রদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
এফটিএ, বিনিয়োগ, পর্যটন এবং উত্তরপ্রদেশের পণ্য ও ব্র্যান্ডের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে রাজ্যের উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি। এই উন্নয়ন যাত্রায় রাজ্যের বাণিজ্যিক ও শিল্প মহলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতার আহ্বান জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী।
গোয়েল বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভারতে নতুন বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। অনুকূল শিল্পনীতি ও সক্রিয় শিল্প প্রকল্পের কারণে উত্তরপ্রদেশ বিনিয়োগের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা রাজ্যে আসছেন, যার ফলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হচ্ছে।
আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং উত্তরপ্রদেশের তরুণদের পরিবর্তনশীল কারিগরি দক্ষতার ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আন্তর্জাতিক স্তরের এই বাণিজ্য মেলার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন পণ্য, খাবার ও পরিষেবা সরাসরি বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানান গোয়েল।
ইউপি ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড শো-তে ছয়টি সহযোগী দেশ, শতাধিক প্রতিনিধি ও প্রদর্শক এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের ফলে রাজ্যের ব্যবসায়ীরা নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক সুযোগ পাচ্ছেন।
উত্তরপ্রদেশে এক্সপ্রেসওয়ে, আধুনিক বিমানবন্দর এবং শিল্প পার্কের পরিকাঠামো গড়ে ওঠার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রতিরক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্সসহ আধুনিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে রাজ্যের উপস্থিতি বাড়ছে বলেও জানান। গ্রেটার নয়ডায় বৃহৎ রোবোটিক্স উৎপাদন কারখানার সম্প্রসারণকে আধুনিক শিল্প ও প্রযুক্তিগত বিকাশের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
গোয়েল বলেন, উত্তরপ্রদেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে বিশ্ববাজারে রফতানি বাড়ানো, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, পর্যটন সম্প্রসারণ এবং রাজ্যের ব্র্যান্ডগুলির বিশ্বব্যাপী পরিচিতি তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বয়ের পাশাপাশি নাগরিক, যুবসমাজ এবং বাণিজ্য ও শিল্প মহলের অংশগ্রহণও এই লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।



















