নয়াদিল্লি, ২৩ এপ্রিল (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় ভোটগ্রহণ চলাকালীন মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা কেন্দ্রে একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে হুমায়ুন কবীর এবং স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্বের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ সামনে আসে।
অভিযোগ, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন আজাম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর তৃণমূল কর্মীদের বিরুদ্ধে ‘দুষ্কৃতী আচরণ’-এর অভিযোগ তোলেন। তাঁর দাবি, এটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি এবং সেখানে ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। অন্যদিকে স্থানীয় কিছু বাসিন্দার অভিযোগ, কবীরই ইচ্ছাকৃতভাবে অশান্তি সৃষ্টি করতে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন।
এক বাসিন্দার কথায়, “হুমায়ুন কবীর এখানে এসে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন।” ফলে ঘটনাস্থলে পরস্পরবিরোধী দাবি সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই হুমায়ুন কবীর কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “আমাকে কেউ থামাতে পারবে না… পুরো মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলকে শূন্য করে দেব।” তিনি আরও দাবি করেন, এলাকায় তৃণমূলের দাপট ও দুষ্কৃতী কার্যকলাপ চলছে এবং তিনি রাজনৈতিকভাবে তার মোকাবিলা করবেন।
তিনি বলেন, “মুর্শিদাবাদে তৃণমূল বলে কিছু থাকবে না… মানুষ শান্তিতে ভোট না দেওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাব না।” এছাড়াও তিনি ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে বলেন, “৪ তারিখে পুলিশের সঙ্গে হিসেব চুকিয়ে নেব।”
কবীর আরও অভিযোগ করেন, তিনি আগেই প্রশাসনকে সম্ভাব্য অশান্তির কথা জানিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “গতকাল থেকেই আমি এসপিকে বলছিলাম সমস্যা হবে। তিনি বলেছিলেন এএসপি পাঠানো হবে। এএসপি ছিলেন, কিন্তু সব কিছু তাঁর সামনেই ঘটেছে।”
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়, যাতে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া বাধাহীনভাবে চলতে পারে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রথম দফার ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কিছু বিচ্ছিন্ন অশান্তির ঘটনা সত্ত্বেও বহু জায়গায় সকাল থেকেই ভোটারদের লম্বা লাইন দেখা গেছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। রাজ্যের বাকি ১৪২টি আসনে দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল এবং ভোটগণনা ৪ মে অনুষ্ঠিত হবে।



















