নয়াদিল্লি, ৯ জুন (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার (পিএমইউওয়াই) আওতায় বছরে ভর্তুকিযুক্ত এলপিজি সিলিন্ডারের সংখ্যা ৯ থেকে কমিয়ে ৪-এ নামিয়ে আনার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানাল বিরোধীরা। কংগ্রেসের এক নেতা কটাক্ষ করে বলেন, এখন এই প্রকল্পের নাম ‘উজ্জ্বলা’ নয়, ‘অন্ধকার প্রকল্প’ হওয়া উচিত।
আইএএনএস-কে কংগ্রেস নেতা সন্দীপ দীক্ষিত বলেন, “এর অর্থ হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথমে কংগ্রেস আমলের প্রকল্পগুলিকেই গ্রহণ করেছিলেন, যেখানে প্রায় সীমাহীন ভর্তুকি দেওয়া হত। পরে সেই সংখ্যা কমিয়ে আট-নয়টি সিলিন্ডারে আনা হয় এবং সেটিকে ‘উজ্জ্বলা’ প্রকল্প হিসেবে নতুন নাম দেওয়া হয়। এখন এই প্রকল্পের নাম ‘অন্ধকার প্রকল্প’ রাখা উচিত।”
তিনি দাবি করেন, সরকার চাইলে অন্তত ছয় থেকে নয়টি সিলিন্ডারে ভর্তুকি চালু রাখতে পারত।
দীক্ষিত বলেন, “সরকার বারবার দাবি করে যে গত ১২ বছরে তারা ৭০ বছরের চেয়ে বেশি কাজ করেছে। যদি আগের সরকারগুলি ১০০ শতাংশ গ্যাস ভর্তুকি দিতে পারে, তাহলে এখন কেন তা কমে তিন বা চারটি সিলিন্ডারে এসে দাঁড়াল? এতে মনে হচ্ছে অর্থনীতি উন্নত হয়নি, বরং দুর্বল হয়েছে।”
কংগ্রেস নেতার অভিযোগ, শুধু এলপিজি নয়, একাধিক ক্ষেত্রে ভর্তুকি কমানো বা তুলে নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “গ্যাসের পাশাপাশি পেট্রোল-ডিজেলেও ভর্তুকি কমেছে। সার ও সেচ ক্ষেত্রেও ভর্তুকি হ্রাস করা হয়েছে। এমনকি সড়ক নির্মাণেও এখন বিভিন্ন ধরনের চার্জ নেওয়া হচ্ছে। গাড়ি কিনলে রোড ট্যাক্স দিতে হয়, সিনেমা হলে গেলেও নানা কর দিতে হয়। সাধারণত কোনও সরকার আর্থিক চাপে পড়লে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়। খুব শীঘ্রই এই সরকারের অর্থনৈতিক অবস্থার বাস্তব চিত্র সামনে আসবে।”
আরজেডি সাংসদ মনোজ কুমার ঝাও সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “আগে ১২টি সিলিন্ডারে ভর্তুকি দেওয়া হত, পরে তা ৯-এ নামানো হয় এবং এখন মাত্র ৪-এ এসে দাঁড়িয়েছে। এই সরকার একাধিক ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। যদি সরকার তার দায়িত্বই পালন করতে না পারে, তাহলে মানুষ কেন তাকে নির্বাচিত করবে?”
তিনি সংবাদমাধ্যমের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে তোলেন।
ঝা বলেন, “মিডিয়ার একাংশ হয়তো সরকারের প্রশংসা করতেই ব্যস্ত, কিন্তু তারা সাধারণ মানুষ, মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের সমস্যাগুলি দেখছে না। শুধু ‘মন কি বাত’ নিয়ে আলোচনা না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার জন্য মানুষের মধ্যে যেতে হবে। জনগণের সঙ্গে প্রকৃত দ্বিমুখী সংলাপ হওয়া উচিত।”
উল্লেখ্য, দেশীয় এলপিজি সরবরাহের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সূত্রের দাবি, একটি গৃহস্থালি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করতে বর্তমানে খরচ পড়ছে ১,৬০০ টাকারও বেশি। অন্যদিকে, তেল বিপণন সংস্থাগুলি প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৭০০ টাকা পর্যন্ত লোকসানের মুখে পড়ছে।























