আগরতলা, ১৭ এপ্রিল: ত্রিপুরা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সহিংসতার অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ফল প্রকাশের পর তাদের দলীয় কর্মী-সমর্থকদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়েছে।
দলের দাবি অনুযায়ী, রাজ্যের একাধিক এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে বহু কর্মী-সমর্থক নিরাপত্তার অভাবে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
রবিবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য এই ঘটনাগুলির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোর মধ্যে এই ধরনের সহিংসতা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে শীঘ্রই রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হবে। গোটা ঘটনায় তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে হুশিয়ারি দিয়েছেন প্রদেশ সভাপতি। তাঁর কথায়, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার দাবি জানানো হয়েছে প্রশাসনের নিকট। নিরীহ জনগণের উপর যারা হামলা চালিয়েছে তাদের নিস্তার দেওয়া হবে না।
এদিকে, কলমচৌড়া থানার ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেনের একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজীব ভট্টাচার্য জানান, অডিওটির সত্যতা যাচাই না করে কোনও মন্তব্য করা ঠিক হবে না। যাচাইয়ের পরই দলীয় অবস্থান স্পষ্ট করা হবে।
অন্যদিকে, লোকসভায় ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস না হওয়ার বিষয়েও কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। তাদের অভিযোগ, মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে কংগ্রেসের অবস্থান অস্পষ্ট এবং দ্বিচারিতাপূর্ণ। সবমিলিয়ে, এডিসি নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি ঘিরে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে, তবে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাগুলি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।



















