আগরতলা, ১৯ এপ্রিল: এডিসি নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সহিংসতার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৭ এপ্রিল স্বশাসিত জেলা পরিষদের (এডিসি) ১০ম সাধারণ নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়। ২৮টি আসনের মধ্যে ২৪টিতে জয়লাভ করে তিপ্রা মথা, আর ৪টি আসনে জয় পায় বিজেপি।
ফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের অভিযোগ সামনে আসে। বিজেপির অভিযোগ, তিপ্রা মথা কর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয় ও কর্মীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। এর ফলে বহু বিজেপি কর্মী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আজ দক্ষিণ জেলায় সফর করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দক্ষিণ ও গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি, দক্ষিণ জেলা বিজেপির সভাপতি, ৩৯ মনু ও ৪০ সাব্রুম মণ্ডলের সভাপতিরা, মনু-রাজনগরের দুই বিজেপি বিধায়ক এবং ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রের এমডিসি কংঅজং মগ সহ অন্যান্য নেতৃত্ব।
সফরের শুরুতে তিনি ২৭ পূর্ব মুহুরীপুর-ভুরাতলী কেন্দ্রের অন্তর্গত ৩৯ মনু বিধানসভা এলাকার কালী বাজারে অগ্নিসংযোগ হওয়া বিজেপি কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এরপর ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রের ৪০ সাব্রুম বিধানসভা এলাকার চাতকছড়ি হয়রাম পাড়ার হামক্রাই বাজারে ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় কার্যালয় ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শন শেষে স্থানীয় এক বিজেপি কর্মী মন্ত্রীকে জানান, দলের অভ্যন্তরীণ দূরত্বও বর্তমান পরিস্থিতির জন্য দায়ী। পরে মন্ত্রী চালিতা বনকুল এলাকায় আরও দুটি ক্ষতিগ্রস্ত কার্যালয় পরিদর্শন করেন এবং মনু-বনকুল মহামনি বুদ্ধমন্দির সংলগ্ন এলাকায় সহিংসতার চিত্র প্রত্যক্ষ করেন।
শেষপর্যন্ত তিনি শিলাছড়ি এলাকায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাস্থল এবং আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। সফর শেষে অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় দাবি করেন, রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক সন্ত্রাস সংঘটিত হয়েছে ২৮ শিলাছড়ি-মনু বনকুল কেন্দ্রে। তিনি এই ঘটনাগুলির নিন্দা জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।



















