অভিজিৎ রায় চৌধুরী
নয়াদিল্লি, ১২ এপ্রিল : নারী সংরক্ষণ আইন নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করতে চলেছে ইন্ডিয়া জোট। আইনটির মধ্যে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি (ওবিসি)-র জন্য পৃথক কোটা অন্তর্ভুক্তির দাবিকে সামনে এনে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, বিশেষত আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে।
কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি ইতিমধ্যেই দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হয়েছে এবং শীঘ্রই বিরোধী দলগুলি যৌথভাবে এই দাবি তুলতে পারে। যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি, তবে ১৫ এপ্রিল ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের বৈঠকে এই ইস্যুতে সমন্বিত কৌশল চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে ওবিসি মহিলাদের জন্য সংরক্ষণের দাবি জোরালোভাবে তোলা হতে পারে।
এই দাবি নারী বন্দনা শক্তি আইন (মহিলা সংরক্ষণ আইন) নিয়ে বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে। কংগ্রেসের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যেই কেন্দ্র এই আইনকে সামনে আনছে, প্রকৃত সংস্কারের জন্য নয়।
বর্তমানে সংবিধানে শুধুমাত্র তফসিলি জাতি (এসসি) ও তফসিলি উপজাতি (এসটি)-র জন্যই আইনসভায় সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। নারী সংরক্ষণ আইন পাসের সময় ওবিসি উপ-কোটা নিয়ে কোনও স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, যা এখন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
সমাজবাদী পার্টি, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলসহ একাধিক বিরোধী দল দীর্ঘদিন ধরেই ওবিসি কোটা অন্তর্ভুক্তির পক্ষে সওয়াল করে আসছে। ফলে ইন্ডিয়া জোট এই ইস্যুতে একজোট হলে সংসদে সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
শুধু বিরোধী শিবির নয়, এনডিএ জোটের ভেতর থেকেও চাপ বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। জনতা দল (ইউনাইটেড) এবং তেলুগু দেশম পার্টির মতো শরিক দলগুলি অতীতে ওবিসি সংরক্ষণের পক্ষে মত দিয়েছে। বিশেষ করে জেডিইউ আগেও নারী সংরক্ষণ আইনের মধ্যে ওবিসি উপ-কোটা চালুর পক্ষে সওয়াল করেছিল।
এদিকে সাংবিধানিক সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা সরকারের হাতে না থাকায় এই ইস্যুতে বিরোধীদের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে আসন্ন অধিবেশনে এই প্রশ্নে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসায়, ওবিসি কোটা নিয়ে এই বিতর্ক এনডিএ-র জন্য রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর হয়ে উঠতে পারে এবং নারী সংরক্ষণ ইস্যুকে উচ্চ ঝুঁকির নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত করতে পারে।



















