কৈলাসহর, ৭ এপ্রিলঃ কৈলাসহর মহকুমায় রাতের অন্ধকারে চুরির ঘটনা যেন নিত্যদিনের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফের সোমবার গভীর রাতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটল একটি সরকারি স্কুলে। ঘটনা কৈলাসহর থানার অন্তর্গত গোলধারপুর রুদ্র সিংহ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে।
মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের ইনচার্জ রাজ মোহন সূত্রধর জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল সোয়া দশটা নাগাদ স্কুলে এসে তিনি দেখতে পান মূল ভবনের গ্রীলের তালা ভাঙা। ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, প্রধানশিক্ষকের কক্ষের দরজা ভাঙা এবং ঘরের ভিতরে থাকা সমস্ত গডরেজ ও লকার ভেঙে ফেলা হয়েছে। একইভাবে অফিস রুমের তালাও ভেঙে ভিতরের আলমারি ও লকার তছনছ করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, স্কুল প্রাঙ্গণের ক্যান্টিনেও হানা দেয় চোরেরা। ক্যান্টিনের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে লকার ভেঙে সেখান থেকে নগদ অর্থ নিয়ে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা।
ঘটনার পরপরই স্কুলের ইনচার্জ রাজ মোহন সূত্রধর প্রথমে স্থানীয় গ্রাম প্রধান বিরু সিনহাকে খবর দেন এবং পরে কৈলাসহর থানায় বিষয়টি জানানো হয়। খবর পেয়ে গ্রাম প্রধান ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে পড়েন এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে অবহিত করেন। পরবর্তীতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে।
উল্লেখ্য, প্রায় দেড়শো বছরের প্রাচীন এই বিদ্যালয়ের সুনাম রয়েছে গোটা এলাকাজুড়ে। প্রতি বছর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে ভালো ফল করে ছাত্রছাত্রীরা স্কুলের ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রাখছে। এতদিনে এই প্রথমবারের মতো এমন চুরির ঘটনা ঘটল বলে জানান গ্রাম প্রধান বিরু সিনহা।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নতুন ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। ভর্তির ফি হিসেবে জমা পড়া অর্থ লকারে রাখা হয়েছিল। ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় সেই অর্থ এখনও ব্যাংকে জমা করা হয়নি। ফলে লকারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কত টাকা চুরি হয়েছে, তা এখনও নির্দিষ্টভাবে জানানো যায়নি।
এছাড়াও, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে নগদ অর্থ ছাড়া অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরি হয়নি। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে নাইট গার্ড এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও পুলিশের নাইট পেট্রোলিং এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।



















