নয়াদিল্লি, ৩ এপ্রিল : রান্নার গ্যাসের উপর নির্ভরতা কমাতে দেশে ইন্ডাকশন হিটার ও বৈদ্যুতিক রান্নার সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিচ্ছে কেন্দ্র সরকার। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার এই বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন দফতরের সচিব, বিদ্যুৎ সচিব এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি)-এর আধিকারিকরা। বৈঠকে মূলত ইন্ডাকশন হিটার ও রান্নার সরঞ্জামের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।
সরকারি এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের কারণে সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটেছে, যার ফলে ইন্ডাকশন হিটারসহ বৈদ্যুতিক পণ্যের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে হবে বলেও তিনি জানান।
পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এই বৈঠক এমন সময়ে করা হল, যখন সরকার তেল, গ্যাস এবং পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের আমদানিতে বিঘ্নের প্রভাব মূল্যায়ন করছে। ইতিমধ্যে সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলা ও খরচ কমাতে কয়েকটি পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যে আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালী প্রায় অচল হয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। এই প্রণালীর মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ হয়।
এদিকে, ভারত ইতিমধ্যে তেল আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে। রাশিয়া, নাইজেরিয়া এবং অ্যাঙ্গোলা থেকে বেশি পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হচ্ছে। পাশাপাশি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও গ্যাস সংগ্রহ বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও জটিল আকার নিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সেনা আগামী কয়েক সপ্তাহে ইরান-এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে। এর পাল্টা জবাবে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মন্তব্য করেছেন, এই ধরনের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
সংঘাত দ্বিতীয় মাসে প্রবেশ করায় অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে, এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করা হচ্ছে।



















