বক্সনগর, ২০ ডিসেম্বর : গ্রামীণ মানুষের জীবন-জীবিকা ও অর্থনৈতিক বুনিয়াদকে আরও মজবুত করে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে বক্সনগর ব্লক স্তরে এক দিবসীয় সচেতনতামূলক শিবিরের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বক্সনগর ডাকবাংলা মাঠ প্রাঙ্গণে।
আজ সকাল ১১টা নাগাদ বক্সনগর প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর ও ন্যাশনাল লাইভস্টক মিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বক্সনগর এলাকার বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সোনামুড়া মহকুমার প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সুব্রত দাস, এগ্রিকালচার ইন্স্যুরেন্স কো-অর্ডিনেটর দীপঙ্কর দাস, বক্সনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান সপ্না নম দাস, বিশিষ্ট সমাজসেবক অনিল চন্দ্র দাস সহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
স্বাগত ভাষণে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর সুব্রত দাস বলেন, গ্রামীণ মানুষের আয়ের একটি বড় মাধ্যম হল প্রাণিসম্পদ পালন। হাঁস, মুরগি, শুকর, ছাগল, ভেড়া ও গরু পালন করে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এমনকি বেকারত্ব দূর করার ক্ষেত্রেও গবাদি পশু ও পোল্ট্রি ফার্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তিনি আরও জানান, কোনো কারণে গবাদি পশুর অকালমৃত্যু হলে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও এগ্রিকালচার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই ইন্স্যুরেন্স প্রকল্পে মোট প্রিমিয়ামের ৮৫ শতাংশ সরকার বহন করে এবং মাত্র ১৫ শতাংশ দিতে হয় উপভোক্তাকে। পুরো প্রক্রিয়ায় প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট পিওপি-রা সহায়তা প্রদান করেন।
এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকার গোপালক ও কৃষি পশুপালনকারী উপভোক্তাদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা চালু করেছে। লুল প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাস চাষ, শুকরছানা, হাঁস-মুরগি, পোল্ট্রি এবং পশুখাদ্য সহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করা। তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সর্বদা উন্নয়নের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বক্সনগর প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের পক্ষ থেকে ২১ জন উপভোক্তার মধ্যে শুকরের বাচ্চা বিতরণ করা হয়। সচেতনতা শিবিরটি গ্রামীণ এলাকায় প্রাণিসম্পদ পালনের গুরুত্ব ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে বলে উদ্যোক্তাদের মত।

