আগরতলা, ১০ মে : টিটিএএডিসি নির্বাচন এবং ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন ঘিরে রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে জাতিগত মেরুকরণ ও অশান্ত পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে প্রদেশ কংগ্রেস। আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের প্রদেশ কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, শাসক জোটের দুই প্রধান শরিক দীর্ঘদিন ধরেই “নকল যুদ্ধের নাটক” চালিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছে।
কংগ্রেসের অভিযোগ, পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের সময় থেকেই ত্রিপুরায় টিটিএএডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাহাড় ও সমতলে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা শুরু হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আর্থিকভাবে দুর্বল আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ। এমনকি শাসকদলের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরাও এই সংঘাতময় পরিস্থিতির শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, সরকার অশান্তি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করে শুধুমাত্র কাগজে-কলমে ও প্রচারের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছে। প্রদেশ কংগ্রেসের দাবি, এসব ঘটনা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং কেন্দ্রীয় পরিকল্পনারই অংশ। ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করেই এই মেরুকরণের রাজনীতি চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে দলটি।
দলের বক্তব্য অনুযায়ী, টিটিএএডিসি নির্বাচনের সময় জনস্বার্থ, দুর্নীতি, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনজাতি এলাকার মৌলিক সমস্যা থেকে মানুষের দৃষ্টি ঘোরাতে শাসক জোটের দুই প্রধান শরিক একে অপরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ এবং জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্যে জড়িয়ে পড়ে। এর ফলে ভোটে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
কংগ্রেস মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরও একই কৌশল অব্যাহত রয়েছে। বিজেপি ও টিপ্রা মথার শীর্ষ নেতৃত্বের পারস্পরিক প্রশংসা, আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের ত্রিপুরা সফর এবং বিভিন্ন বৈঠকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের ইঙ্গিত মিলেছে বলে দাবি করা হয়েছে। বিশেষ করে ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনকে সামনে রেখে জাতিগত মেরুকরণ আরও বাড়ানোর রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলে কংগ্রেস।
মান্দাইয়ে টিপ্রা মথার এক যুবনেতার গাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা, ৪৮ ঘণ্টার বন্ধ ও রাস্তা অবরোধ প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলে দলটি। কংগ্রেসের দাবি, এসব ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উদ্যোগী পুলিশ আধিকারিকদেরও আক্রমণের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
মণিপুরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেস দাবি করে, রাজনৈতিক স্বার্থে সাম্প্রদায়িক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী উত্তেজনা উসকে দিলে তার ভয়াবহ পরিণতি দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হয়। ত্রিপুরাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দলটি।
শেষে প্রদেশ কংগ্রেস রাজ্যের আদিবাসী ও অ-আদিবাসী সকল শান্তিপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলে, বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনই একমাত্র পথ।



















