ভারত–ওমান ব্যবসা ফোরামে মোদী: ‘সিইপিএ নতুন গতি ও আস্থা দেবে দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বে’

মাস্কাট, ১৮ ডিসেম্বর: বৃহস্পতিবার ভারত–ওমান ব্যবসা ফোরামে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১১ বছরে ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কারের বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য, এই সংস্কারগুলির ফলে ভারত আজ বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক বাজারে পরিণত হয়েছে।

ভারত–ওমান সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি-র গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি দুই দেশের অংশীদারিত্বে নতুন আস্থা ও গতি সঞ্চার করবে। মোদীর কথায়, “গত ১১ বছরে ভারত শুধু নীতি বদলায়নি, তার অর্থনৈতিক ডিএনএ-ই বদলে দিয়েছে।”

তিনি জিএসটি ও দেউলিয়া ও দেউলিয়াত্ব আইন-এর মতো সংস্কারগুলিকে অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জিএসটি গোটা ভারতকে একীভূত ও সংহত বাজারে পরিণত করেছে। আর আইবিসি আর্থিক শৃঙ্খলা এনেছে, স্বচ্ছতা বাড়িয়েছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা মজবুত করেছে।”

উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উদ্দেশে ভাষণ দিতে গিয়ে মোদী ভারত ও ওমানের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “মান্দভি থেকে মাস্কাট পর্যন্ত আরব সাগর আমাদের সংযোগের এক শক্তিশালী সেতু। এই সাগর আমাদের সংস্কৃতি ও অর্থনীতিকে যুগ যুগ ধরে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে।”

সিইপিএ-কে ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ আখ্যা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চুক্তি দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ করবে। তাঁর কথায়, “আজ আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, যা ভবিষ্যতে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সিইপিএ আমাদের অংশীদারিত্বে ২১ শতকে নতুন আস্থা ও নতুন শক্তি যোগাবে। এটি আমাদের ভবিষ্যতের ব্লুপ্রিন্ট, যা বাণিজ্য বাড়াবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ খুলে দেবে।”

ভারত ও ওমানের দীর্ঘদিনের সামুদ্রিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে মোদী বলেন, দুই দেশের ব্যবসায়ীরা শতাব্দীপ্রাচীন বাণিজ্যিক ঐতিহ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, “আমাদের ব্যবসায়ীরাই আমাদের বাণিজ্যের প্রতীক। আপনারা দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহন করছেন। সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই আমাদের পূর্বপুরুষরা সামুদ্রিক বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।”

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতেই ভারত–ওমান সম্পর্ক গড়ে উঠেছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ঢেউ ও ঋতু বদলালেও ভারত ও ওমানের বন্ধুত্ব প্রতিটি ঋতুতে আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং প্রতিটি ঢেউয়ের সঙ্গে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।”

একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মাইলফলকের কথাও উল্লেখ করেন মোদী। তিনি জানান, ভারত ও ওমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০ বছর পূর্তি উদযাপন করছে। তাঁর কথায়, “এটি শুধু উদযাপন নয়, বরং আমাদের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ ঐতিহ্যকে ভবিষ্যতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক মজবুত ভিত্তি।”

ভারত–ওমান সিইপিএ দুই দেশের সহস্রাব্দপ্রাচীন সম্পর্কে এক উল্লেখযোগ্য মাইলফলক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়াল। তিনি একে ‘ওয়াটারশেড মোমেন্ট’ বা যুগান্তকারী মুহূর্ত বলে আখ্যা দেন। মাস্কাটে ওমান–ভারত বিজনেস সামিটে গোয়াল বলেন, দীর্ঘদিনের আলোচনা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার ফল এই চুক্তি, যা বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়াবে, বিনিয়োগে গতি আনবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা আরও গভীর করবে।

উল্লেখ্য, ওমানের ক্ষেত্রে এটি কোনও একক দেশের সঙ্গে মাত্র দ্বিতীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং প্রায় দুই দশকের মধ্যে প্রথম। ফলে এই চুক্তি ওমানের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। একই সঙ্গে এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রেক্ষাপটে বাণিজ্য বৈচিত্র্য ও সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থিতিস্থাপকতাবাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।