আগরতলা, ১৬ ডিসেম্বর : অবশেষে হাইকোর্টের রায়কে মান্যতা দিল সাব্রুম নগর ও মহকুমা প্রশাসন। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের পর হাইকোর্টের নির্দেশে সাব্রুম মহকুমার সাব্রুম–আগরতলা জাতীয় সড়ক সংলগ্ন, সাব্রুম মহকুমা হাসপাতালের বিপরীতে অবস্থিত সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে গড়ে ওঠা অবৈধ নির্মাণ উচ্ছেদের কাজ শুরু হয়েছে।
জানা যায়, সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মুকুন্দ লাল শীলের কন্যা গৌরী শীল দে দীর্ঘদিন ধরে সাব্রুম মহকুমা ও নগর প্রশাসনের কাছে ন্যায়বিচার চেয়ে আসছিলেন। কোনো সুরাহা না পেয়ে তিনি উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হন। বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানির পর নির্দেশ দেন যে সাব্রুম তহশীলাধীন নগর পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দাগ নম্বর ৪০৫১, খতিয়ান নম্বর ৪৫১-এর একটি অংশ, যা পূর্বে পুকুর (ডোবা) ছিল, তা ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে ধীরে ধীরে মাটি ভরাট করে এবং নগর প্রশাসনের সরকারি ড্রেনের ওপর অবৈধভাবে পাকা বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। আদালত ওই অবৈধ নির্মাণ অপসারণের নির্দেশ দেন।
হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী সোমবার সকাল থেকে সাব্রুমের মহকুমা শাসক তথা সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের এক্সিকিউটিভ অফিসার অভিজিৎ সিং যাদব (আইএএস) স্বয়ং ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সাব্রুম ও নগর প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক, মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগিতায় বুলডোজার ব্যবহার করে অবৈধ নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু করেন।
খবর সংগ্রহকালে প্রশাসনিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত মুকুন্দ লাল শীলের আরেক কন্যা উমা শীল (সাব্রুম বাজারে মামনি মেডিকেল হলের মালিক) এবং তাঁর স্বামী চিত্তরঞ্জন শীলের বিরুদ্ধে এই অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পৈতৃক যৌথ সম্পত্তির উপর একক ভোগদখলের উদ্দেশ্যে তাঁরা এই নির্মাণ করেন। আরও অভিযোগ করা হয়, মৃত মুকুন্দ লাল শীলের সম্পূর্ণরূপে প্রতিবন্ধী পুত্র মৃণাল কান্তি শীলের জোত জমি জোরপূর্বকভাবে সাব্রুম বাজারের মাংস ব্যবসায়ী দুলাল সাহা এবং জলেফা বাজারের চাল ব্যবসায়ী গোপাল সোমের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্বজিৎ শীল জানান, তিনি ইতিমধ্যেই সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, উমা শীল ও চিত্তরঞ্জন শীল সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ৭ নম্বর রাস্তার উপরও অবৈধভাবে দোকানঘর ও সিঁড়ি নির্মাণ করে রাস্তাটিকে সংকুচিত করে ফেলেছেন। এর ফলে জরুরি পরিষেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিস তো দূরের কথা, ছোট গাড়িও ওই রাস্তায় প্রবেশ করতে পারে না। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে বড় বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে।
এই মামলায় হাইকোর্টে আবেদনকারীর পক্ষে সওয়াল করেন আইনজীবী পুরুষোত্তম রায় বর্মন ও কুমার চক্রবর্তী।
হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করে প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন সাব্রুম বাজারের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে স্থানীয় এলাকাবাসী। তাঁদের মতে, এই পদক্ষেপে এলাকায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলো এবং দীর্ঘদিনের সমস্যার অবসান ঘটল।

