“অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ”: ডিজিটাল গ্রেফতারের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের

নয়াদিল্লি, ১৭ অক্টোবর: সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ডিজিটাল গ্রেফতারের ক্রমবর্ধমান ঘটনাগুলিকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে, হরিয়ানার আম্বালায় এক প্রবীণ দম্পতিকে ভুয়ো আদালতের আদেশ ও তদন্তকারী সংস্থার নকল পরিচয় ব্যবহার করে ১.০৫ কোটি টাকা প্রতারণার ঘটনাকে “অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ” বলে অভিহিত করেছে শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি সুর্যকান্ত এবং জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বলেন, আদালতের আদেশ ও বিচারকদের স্বাক্ষর জাল করে নিরীহ নাগরিকদের, বিশেষত প্রবীণদের, ডিজিটালি গ্রেফতার করার মত ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের বিশ্বাসের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দেয়।

বিচারকদের জাল স্বাক্ষরসহ ভুয়ো আদালতের আদেশ তৈরি করা এবং তা ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করা শুধুমাত্র প্রতারণা বা সাইবার অপরাধ নয়, এটি বিচারব্যবস্থার মর্যাদার ওপর সরাসরি আঘাত, বলে মন্তব্য করেন আদালত।

৭৩ বছর বয়সী এক নারীর চিঠির ভিত্তিতে মামলাটি সুয়ো মটো (স্বপ্রণোদিতভাবে) গ্রহণ করে সুপ্রিম কোর্ট। ওই নারী অভিযোগ করেন, ৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তার এবং তার স্বামীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি ও নজরদারির ভুয়ো আদেশ তৈরি করে প্রতারক চক্রটি তাদের কাছ থেকে এক কোটিরও বেশি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়।

অভিযোগকারিণী জানান, প্রতারকরা নিজেদের সিবিআই ও ইডি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে অডিও ও ভিডিও কলের মাধ্যমে তাদের হুমকি দেয় এবং ভুয়ো আদালতের আদেশ দেখিয়ে মানসিক চাপে ফেলে অর্থ আদায় করে।

সুপ্রিম কোর্ট জানায়, এই ঘটনা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ধরনের ডিজিটাল প্রতারণার ঘটনা সংবাদ মাধ্যমে বহুবার উঠে এসেছে। আদালতের মতে,এই জাতীয় অপরাধের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি, যাতে এই ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ চক্রকে চিহ্নিত ও ধ্বংস করা যায়।

আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের সহায়তা চেয়ে হরিয়ানা সরকার ও আম্বালা সাইবার অপরাধ দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

জানা গেছে, এই ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা -এর বিভিন্ন ধারার অধীনে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে এই ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আশা করছেন বহু ভুক্তভোগী।