কোরিয়ান এয়ার-এশিয়ানা মাইলেজ একত্রীকরণ প্রস্তাব বাতিল করল দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগিতা কমিশন

সিওল: দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, কোরিয়ান এয়ার লাইনস ও এশিয়ানা এয়ারলাইনস-এর মাইলেজ একত্রীকরণ পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি পর্যাপ্ত তথ্য না থাকা এবং গ্রাহক উপকারে সন্দেহ থাকায় এটি গৃহীত হয়নি।

ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, উভয় বিমান সংস্থার একীভূতকরণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই মাইলেজ একত্রীকরণের প্রস্তাব একই দিনে জমা দেওয়া হয়েছিল। তবে এফটিসি জানিয়েছে, এই প্রস্তাবে “মাইলেজ রিডেম্পশন” বা পুরস্কার ব্যবস্থার দিক থেকে আগের এশিয়ানা অফারের তুলনায় ঘাটতি রয়েছে।

এফটিসি এক বিবৃতিতে জানায়, “প্রস্তাবিত মাইলেজ একত্রীকরণ অনুপাত ও অন্যান্য ব্যাখ্যা পর্যাপ্ত ছিল না। সে কারণে প্রাথমিক মূল্যায়ন শুরু করার জন্য এটি গ্রহণযোগ্য নয়।” কমিশন কোরিয়ান এয়ারকে নির্দেশ দিয়েছে প্রস্তাবটি অবিলম্বে সংশোধন ও পরিপূরক করে পুনরায় জমা দিতে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের নভেম্বরে কোরিয়ান এয়ার এশিয়ানার নিয়ন্ত্রণমূলক শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তির মাধ্যমে তারা বিশ্বের ১০ম বৃহত্তম বিমান সংস্থা গঠনের লক্ষ্য নিয়েছে।

ইঞ্চন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান গেটওয়ে) যাত্রী ও মালবাহী কার্গো স্লটের প্রায় ৪০ শতাংশ এই দুই বিমান সংস্থার দখলে রয়েছে।

এপ্রিল মাসে কোরিয়ান এয়ার ঘোষণা দেয়, তারা বুচনে (সিওলের পশ্চিমে) ১.২ ট্রিলিয়ন ওন (প্রায় ৮৪৪.৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগে একটি পরবর্তী প্রজন্মের বিমান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করবে।

৬৫,৮০০ বর্গমিটার জায়গাজুড়ে নির্মিতব্য এই কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ ২০২৭ সালে শুরু হয়ে ২০৩০ সালে শেষ হওয়ার কথা। এতে ১,০০০-এরও বেশি কর্মী, গবেষক ও ফ্লাইট প্রশিক্ষক কাজ করবেন। কেন্দ্রটিতে একটি ড্রোন গবেষণা বিভাগ, ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও নিরাপত্তা অভিজ্ঞতা সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

কোরিয়ান এয়ার জানায়, এই পরিকল্পনা তাদের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি, পাইলট প্রশিক্ষণ এবং টেকসই বিমান চলাচলের প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ করে। একীভূত ফ্লাইট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি কোরিয়ান এয়ার ও এশিয়ানার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম একত্রিত করবে, যা বছরে প্রায় ২১,৬০০ পাইলটকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রাখবে।