রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ

আগরতলা, ২৮ মে : রাস্তা নির্মাণে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি, অর্থ নয়ছয় করার অভিযোগ উঠলো ঠিকেদার কিশোর রায়ের বিরুদ্ধে।

প্রসঙ্গত, রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে স্বচ্ছতার বজায় রেখে কাজ করে এলাকার উন্নয়ন করতে। এরই মধ্যে শান্তির বাজার মহকুমায় কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার মাধ্যমের রাস্তা নির্মানের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মধ্যে শান্তির বাজার মহকুমায় দুইটি কাজের রাস্তা নির্মানের বিভিন্ন অভিযোগ উঠে আসছে। দুইটি কাজের দায়িত্ব পান ঠিকেদার কিশোর রায়। যার মধ্যে এন এইচ ০৮ টু ( মধ্য পাড়া বাজার ), টু কলসী রোড ( মাইছাফ্রু মগ পাড়া বাজার ) ভায়া নাজিরাই পাড়া বাজার পর্যন্ত ১০পয়েন্ট ১৩৯ কিমি রাস্তা নির্মান করা হচ্ছে। রাস্তা নির্মানের কাজ খুবই নিম্নমানের হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

বিগত কিছুদিন পূর্বে মন্ত্রী শুক্লাচরন নোয়াতিয়া ও জোলাইবাড়ী ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান রবি নমঃ এই রাস্তা নির্মানের কাজ পরিদর্শন করেন। তিনি দেখতে পেয়েছেন রাস্তাটি গুনগত মান বজায় নারেখেই কাজ করা হচ্ছে। এইবিষয়ে তাঁর ঠিকেদারকে অবগত করেন। কিন্তু দেখা যায় ঠিকেদার নিজের প্রভাব কাটিয়ে কাজের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার ও অন্যান্য আধিকারিককে অর্থের বিনিময়ে ক্রয়করে নিম্নমানের কাজ করে যাচ্ছে এমনটাই অভিযোগ। এলাকাবাসীরা জানান এই বিষয়ে দপ্তরের আধিকারিকদের জানিয়েও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

তাঁর এও জানান, কাজের দায়িত্ব প্রাপ্ত ঠিকেদার কিশোর রায়কে নাপেয়ে উনারা মেনেজারের নিকট জানতে চাইলে মেনেজার জানান এই কাজদেখাশুনা করছেন গৌতম চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি। তিনি বিলোনিয়ায় থাকেন। এলাকাবাসীর কোনো প্রকারের অভিযোগ থাকলে বিলোনিয়ায় গিয়ে গৌতম চৌধুরীর নিকট সাক্ষাৎকার করতেন। অবশেষে এলাকাবাসী হতাশাগ্রস্থহয়ে কাজের গুনগতমান বজায় রাখতে সংবাদমাধ্যমের দারস্ত হন। তাঁর সংবাদ মাধ্যমের সন্মুখিন হয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রী শুক্লাচরন নোয়াতিয়ার দৃষ্টি আকর্ষন করে জানান যাতেকরে এলাকাবাসীর সুবিধার্থে স্বচ্ছতার সহিত গুনগতমান বজায়রেখে কাজটি করাহোক। অপরদিকে একই ঠিকেদার কিশোর রায় শান্তির বাজারে অপর একটি একই প্রকল্পের কাজ এন এইচ ০৮ টু আনন্দ দাস পাড়া যাতায়তের ৮ পয়েন্ট ৩৫৬ কিঃ মিঃ রাস্তা নির্মান করেন। এই রাস্তা নির্মানের সাইনবোর্ড লাগানো হলেও অর্থরাশি লেখাহয়নি। এই রাস্তা নির্মানে বিভিন্ন জায়গায় সাইডওয়াল দেওয়ার কথা থাকলেও সল্পব্যায়ে অধিক মুনাফার লক্ষ্যে সাইড ওয়াল নির্মান নাকরাতে সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙ্গে যাচ্ছে। রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ার চিত্র পরিদর্শনে আসেন কাজের দায়িত্বে থাকা ইঞ্জিনিয়ার প্রেমরঞ্জন বিশ্বাস। তাঁর কাছ থেকে কাজের গুনগত মানের কথা জানতে চাইলে তিনি কোনো প্রকার সৎউত্তর দিতে পারেননি। এই কাজের জন্য কত টাকা অর্থ ব্যায় করা হয়েছে তা জানতে চাইলেও তিনি সঠিককোনো উত্তর দিতে পারেননি। একপ্রকার বলাচলে সকলে ঠিকেদার কিশোর রায়ের কাছে বিক্রিহয়ে নিম্নমানের কাজে সহযোগীতার হাত বারিয়ে দিচ্ছে। এতে করে ঠিকেদার সহ কিছু সংখ্যক লোকজনের পকেট ভারীহচ্ছে ও কাজের গুনগত মান নিম্ন মানের হচ্ছে।

মন্ত্রী শুক্লাচরন নোয়াতিয়া কোনোপ্রকার অন্যায়কে পশ্রয় দেননা। বিগত দিনেও তাঁকে বিভিন্ন কাজের গুনগতমান বজায়রেখে কাজ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন জায়গায় ছুটে যেতে দেখাগেছে। এখন সকলে আশাবাদী ঠিকেদার কিশোর রায়ের বিরুদ্ধে মন্ত্রী শুক্লাচরন নোয়াতিয়া ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সঠিক পদক্ষেপ গ্রহনকরবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *