News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • অসম : পুলিশের সফল সাঁড়াশি অভিযান, বাধ্য হয়ে ওদালগুড়ির ভারত-ভুটান সীমান্তে আত্মসমর্পণ এনএলএফবি-প্রধান বাথার
Image

অসম : পুলিশের সফল সাঁড়াশি অভিযান, বাধ্য হয়ে ওদালগুড়ির ভারত-ভুটান সীমান্তে আত্মসমর্পণ এনএলএফবি-প্রধান বাথার

ওদালগুড়ি (অসম), ২২ জুলাই (হি.স.) : পুলিশের সফল সাঁড়াশি অভিযানে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছে বড়োল্যান্ডে নবগঠিত উগ্রপন্থী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্ৰন্ট অব বডোল্যান্ড সংক্ষেপে এনএলএফবি-প্রধান বিনোদ মুশাহারি ওরফে এম বাথা। সাম্প্রতিককলে রাজ্য সরকারের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এনএলএফবি-প্রধান বাথা। অতি সম্প্রতি মোস্ট ওয়ান্টেড এম বাথার মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল এনআইএ। আজ বৃহস্পতিবার দুৰ্ধৰ্ষ এই জঙ্গি বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র সহ তার প্রায় ২০ জন সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকদের কাছে আত্মসমৰ্পণ করেছে।

আজ দুপুরে বড়োল্যান্ড টেরিটরিয়াল রিজিওন (বিটিআর)-এর অন্তর্গত ওদালগুড়ির ভারত-ভুটান সীমান্তে তার ২০ জন সতীর্থকে সঙ্গে নিয়ে অসম পুলিশের কাছে আত্মসমৰ্পণ করেছে। আত্মসমর্পণের পর তাদের লালপানি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, আজ রাতে অথবা আগামীকাল তাদের গুয়াহাটিতে নিয়ে যাওয়া হবে। পুলিশের জনৈক শীর্ষ আধিকারিক জানান, বিনোদ মুশাহারি ওরফে এম বাথা প্রতিবেশী রাজ্য অরুণাচল প্রদেশের ঘন জঙ্গলে আত্মগোপন করেছিল। গোপন সূত্রে এই খবর পেয়ে বাথা এবং তার সতীর্থদের ধরে আনতে অসম পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক দল অরুণাচলে গিয়ে অভিযান চালিয়েছিল। তখনই সে আত্মসমর্পণ করবে বলে অভিযানকারী পুলিশ দলের কাছে বার্তা পাঠায়। সে অনুযায়ী আজকের দিনকে আত্মসমর্পণ করতে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় তাকে।


এদিকে বাথা সহ গোটা এনএলএফবিকে সমাজের মূলস্রোতে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তিনি তাঁর টুইটার হ্যান্ডলে তাদের স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, এখন বডোল্যান্ডের সর্বাঙ্গীন বিকাশ এবং বড়ো জনগোষ্ঠীয় মানুষের অনন্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পরিচয় রক্ষার প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি লিখেছেন, সরকার গৃহীত নীতিতে জনগণের যে আস্থা রয়েছে এনএলএফবি-র এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা প্রতিফলিত হয়েছেI আমি তাদের স্বগৃহে প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানাই।


অন্যদিকে বাথার মতো দুর্ধর্ষ এক উগ্রপন্থী সদলে আজ আত্মসমৰ্পণ করায় বড়োল্যান্ডের জন্য এক আশার পরিবেশ তৈর হয়েছে বলে মনে করেন বিটিআর-প্ৰধান প্ৰমোদ বড়ো। এতে বড়োল্যান্ডে শান্তি অক্ষুণ্ণ থাকবে বলে দাবি করেছেন তিনি। আজকের আত্মসমৰ্পণ অনুষ্ঠানে প্রমোদ বড়োও উপস্থিত ছিলেন।


এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২০২০ সালের ২৭ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে কেন্দ্ৰীয় সরকার, রাজ্য সরকার এবং উগ্রপন্থী সংগঠন ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট অব বডোল্যান্ড (এনডিএফবি)-এর চার গোষ্ঠী-সহ বড়ো জনগোষ্ঠীয় কয়েকটি সংগঠনের মধ্যে সম্পাদিত হয়েছিল ঐতিহাতিক তৃতীয় ত্ৰিপাক্ষিক চুক্তি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্ৰী অমিত শাহ, অসমের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের উপস্থিতিতে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পাশাপাশি নর্থ-ইস্ট ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (নেডা)-এর আহ্বায়ক হিমন্তবিশ্ব শর্মা (বর্তমানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী), তদানীন্তন বিটিসি-প্রধান হাগ্রামা মহিলারি-সহ এনডিএফবি (আর)-র সভাপতি রঞ্জন দৈমারি, এনডিএফবি (প্রগ্রেসিভ)-র গোবিন্দ বসুমতারি, লরেন্স ইসলারি, এনডিএফবি (ধীরেন)-র ধীরেন বড়ো, এনডিএফবি (সং)-র সচিব বি সাওরাইগৌরা, নিখিল বড়ো ছাত্ৰ ইউনিয়ন (এবসু) সভাপতি প্রমোদ বড়ো (বর্তমান বিটিআর-প্রধান)-সহ আরও কয়েকজন সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীয় নেতা। এর পর ঠিক হয়েছিল ওই বছরের ৩০ জানুয়ারি জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুদিবেসের দিন অসম তথা বড়োল্যান্ডের স্থায়ী শান্তি কামনায় অস্ত্র সংবরণ করবেন উগ্রপন্থীরা। সে অনুযায়ী বি সাওরাইগ্রা, গোবিন্দ বসুমতারি, রঞ্জন দৈমারি এবং ধীরেন্দ্র বড়োর নেতৃত্বে গত বছর ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি অস্ত্র সংবরণ করে জাতীয় মূল স্রোতে ফিরে এসেছিলেন চার জঙ্গি সংগঠনের ১৬১৫ জন সক্রিয় ক্যাডার। আত্মসমর্পণকারী ওই দলে এম বাথাও ছিলেন।


কিন্তু পরবর্তীতে এম বাথা তার প্রায় ৩০ জন অনুগামীকে নিয়ে ফের অন্ধকার জগতে ফিরে যায়। ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তিতে ‘অসন্তুষ্টি’র জন্য নিজেদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হওয়ায় তারা নাকি ফের জঙ্গলে ফিরে যায়। এর পর চলতি বছরের মাৰ্চে ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্ৰন্ট অব বডোল্যান্ড (এনএলএফবি) নামের আরেকটি নতুন উগ্রপন্থী সংগঠনের জন্ম দিয়েছিল। কিন্তু বড়োল্যান্ডকে ফের রক্তাক্ত করার যড়যন্ত্ৰে লিপ্ত হওয়ায় এনএলএফবি-প্রধান এম বাথাকে মোস্ট ওয়ান্টেড বলে তার মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। প্রসঙ্গত, গত মার্চ-এপ্রিলে রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট দিতে ফতোয়া জারি করেছিল এনএলএফবি-প্রধান বিনোদ মুশাহারি ওরফে এম বাথা।

Releated Posts

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানি হামলার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূতের

কাবুল, ২২ মে (আইএএনএস): আফগানিস্তানে মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক রাষ্ট্রসংঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট কাবুলের ওমিদ পুনর্বাসন হাসপাতালে পাকিস্তানের…

ByByNews Desk May 22, 2026

ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে বিধায়কের আকস্মিক হানা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল চিত্রে ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২২ মে :উত্তর ত্রিপুরার অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ধর্মনগর জেলা হাসপাতাল-কে ঘিরে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থা, রোগী…

ByByTaniya Chakraborty May 22, 2026

ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’ কর্মসূচির সূচনা, ধলাই জেলার ৩৫ জনের অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ২০ মে : রাজ্যের সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের সরাসরি যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমীপেষু’…

ByByReshmi Debnath May 20, 2026

সুস্থ সমাজ গঠনে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান সুদীপ রায় বর্মনের

আগরতলা, ১৭ মে: দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সুস্থ সমাজ ও শক্তিশালী দেশ গঠনে কাজে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন…

ByByReshmi Debnath May 17, 2026

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top