কলকাতা, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) পূর্ব বর্ধমান জেলার বর্ধমান শহরের একটি জনবহুল এলাকা থেকে জইশ-ই-মহম্মদ (জেইএম)-এর সঙ্গে যুক্ত থাকার সন্দেহে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার সকালে এই গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে রাজ্য পুলিশ।
এসটিএফ সূত্রে খবর, ধৃতের নাম হামিদ মণ্ডল। তিনি কাশ্মীরের বাসিন্দা বলে দাবি করা হলেও, এই নামটি ভুয়ো কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শুক্রবারই তাঁকে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে এবং পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানানো হবে।
তদন্তকারীদের দাবি, দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের কাছে বর্ধমানের ‘রেনেসাঁ কমপ্লেক্স’-এ ভাড়া নেওয়া একটি ফ্ল্যাটে থাকছিলেন ওই যুবক। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বর্ধমানে আসার আগে তিনি কলকাতার উপকণ্ঠ নিউটাউনের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন।
এসটিএফের তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, ওই নিউটাউনের বাসস্থানটি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় ছিল, যা নিয়ে তদন্তকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতের কাছ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দৈনন্দিন কর্মসূচি-সংক্রান্ত কিছু নথি উদ্ধার হয়েছে। এছাড়াও কয়েকজন ভিভিআইপির সফরসূচি সম্পর্কিত তথ্যও উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এসটিএফের প্রাথমিক তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হামিদ পাকিস্তানে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন এবং সেখানে আইএসআই-প্রশিক্ষিত জঙ্গি হিসেবে প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি পশ্চিমবঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের ‘হ্যান্ডলার’ হিসেবে কাজ করতেন এবং মুসলিম যুবকদের প্রভাবিত করে জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত করা ও প্রশিক্ষণের জন্য পাকিস্তানে পাঠানোর কাজে জড়িত ছিলেন বলে সন্দেহ।
এদিকে, নিউটাউন ও বর্ধমানে যাঁরা হামিদকে ভাড়া দিয়েছিলেন, তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এসটিএফ। ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার সময় তিনি কী ধরনের পরিচয়পত্র জমা দিয়েছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার ইনপুটের ভিত্তিতে মৌলবাদী সংগঠনের সম্ভাব্য হুমকির কারণে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন সময় থেকেই শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেন্দ্রীয় সরকার নিয়মিত পর্যালোচনা ও পর্যায়ক্রমে জোরদার করেছিল।



















