নয়াদিল্লি, ৩১ জুলাই (আইএএনএস): সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা ও পাসের কথা উল্লেখ করে বিরোধী দলগুলিকে আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি না করার আহ্বান জানালেন কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল পাস হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, বিলটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থন পেয়েছে।
শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় রিজিজু বলেন, “সংসদে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে আনা বিলটি বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ সাংসদের সমর্থনে পাস হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে কয়েকজন ছাড়া এর কোনও বিরোধিতা ছিল না। শিক্ষা এবং প্রশ্নফাঁস রোধের বিষয়ে সবাই আন্তরিক।”
তিনি জানান, শুক্রবারের সংসদীয় কার্যসূচিতে একটি বেসরকারি সদস্যের বিলও রয়েছে। তাঁর আশা, লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালাতে সব রাজনৈতিক দল সহযোগিতা করবে।
রিজিজু বলেন, “প্রশ্নফাঁস-বিরোধী বিলকে সমর্থন করার জন্য প্রধানমন্ত্রী সমস্ত সাংসদকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। দেশের শিশু ও যুবসমাজের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে এই আইন যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করা উচিত। এছাড়াও আজ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল আলোচনার জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে।”
বিরোধী দলগুলির উদ্দেশে তিনি বলেন, “তাঁরা নিজেদের দাবি-দাওয়া ও উদ্বেগ অবশ্যই তুলে ধরতে পারেন। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ আইন পাসের পথে বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় কণ্ঠভোটে পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর বিলটি সংসদের উভয় কক্ষের অনুমোদন পায়। যদিও কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন বিরোধী দলগুলি ভোটাভুটির আগে ওয়াকআউট করে। এর আগে বুধবার লোকসভায় বিলটি পাস হয়।
কেন্দ্রের দাবি, সংশোধিত আইনে প্রশ্নফাঁস ও সরকারি পরীক্ষায় অন্যান্য অনিয়ম রোধে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতাও চেয়েছে সরকার।
নতুন আইনে সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বা অন্য কোনও অসাধু উপায়ে জড়িত প্রমাণিত হলে পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সংগঠিত প্রশ্নফাঁস চক্রের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়া সংশোধিত আইনে প্রতিটি রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল প্রশাসনকে এই আইনের অধীন মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত হিসেবে যে কোনও সেশন আদালতকে মনোনীত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। চার্জশিট দাখিলের তিন মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ করার লক্ষ্যে প্রতিদিন শুনানি চালানোর ব্যবস্থাও আইনে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।


















