নয়াদিল্লি, ২৭ জুলাই (আইএএনএস): আহমেদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে কোনও বিলম্ব হয়নি এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনেই তদন্ত এগোচ্ছে বলে সোমবার সংসদে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক।
রাজ্যসভায় এক লিখিত উত্তরে মন্ত্রক জানায়, বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনার তদন্তে একাধিক প্রযুক্তিগত ও প্রমাণভিত্তিক বিষয় জড়িত থাকে। তাই চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশের নির্দিষ্ট সময়সীমা আগে থেকে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
মন্ত্রকের বক্তব্য, দুর্ঘটনার সম্ভাব্য সব কারণ এবং সহায়ক সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফলে তদন্ত এখনও চলছে এবং এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
এছাড়াও জানানো হয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে বিমানের থ্রাস্ট কন্ট্রোল মডিউল-এর সম্পূর্ণ পরীক্ষা বর্তমানে মূল প্রস্তুতকারক সংস্থার কারখানায় চলছে।
এর আগেও সংসদে কেন্দ্র জানিয়েছিল, এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে তদন্ত চালাচ্ছে। ২০২৫ সালের ১২ জুলাই প্রকাশিত প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট ইতিমধ্যেই এএআইবি-র ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার অ্যানেক্স-১৩ অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১২ জুন একটি অন্তর্বর্তী বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে। তদন্ত শেষ হলে চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইকগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই-১৭১ বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার উড্ডয়নের মাত্র ৩৫ সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জন এবং মাটিতে থাকা ১৯ জন-সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। বিমানের একমাত্র এক যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান।
এএআইবি-র প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়েছে, উড্ডয়নের পর বিমানের দুই ইঞ্জিনের ফুয়েল কাট-অফ সুইচ ‘ রান ‘ অবস্থান থেকে ‘ কাটঅফ ‘-এ চলে যাওয়ায় ইঞ্জিনের শক্তি বন্ধ হয়ে যায়। তবে ককপিট ভয়েস রেকর্ডারে ধরা পড়া কথোপকথনে এক পাইলট অন্য পাইলটকে জানান যে, তিনি ফুয়েল কন্ট্রোল সুইচ বন্ধ করেননি। দুর্ঘটনার ঠিক আগে সুইচ দু’টি আবার ‘ রান ‘ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু আগেই জানিয়েছেন, এএআইবি-র রিপোর্টটি কেবল প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্তে না পৌঁছানোর আহ্বান জানান তিনি।



















