নয়াদিল্লি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): লাদাখের স্বায়ত্তশাসন ও পরিবেশ সুরক্ষার দাবিতে টানা ২৬ দিন অনশনের পর শুক্রবার অনশন ভাঙলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং, চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য এবং সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।
অনশন ভাঙার আগে ওয়াংচুক বলেন, “আমার দাবিগুলির বিষয়ে যে অগ্রগতি হয়েছে, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাই আমি আনন্দের সঙ্গে অনশন ভাঙছি। সবাইকে ধন্যবাদ।” এরপর চিকিৎসকদের দেওয়া তরল পানীয় গ্রহণ করে তিনি অনশন ভাঙেন এবং তাঁকে একটি ঐতিহ্যবাহী সম্মানসূচক স্কার্ফ পরিয়ে দেওয়া হয়।
ওয়াংচুক লাদাখের অ্যাপেক্স বডি এবং কার্গিল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স (কেডিএ)-এর নেতাদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান। তাঁদের লাদাখ থেকে দিল্লিতে এসে পাশে দাঁড়ানোর জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরাও তাঁকে আশীর্বাদ করেন। চিকিৎসকরা জানান, দীর্ঘ অনশনের পরও তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এক্স-এ করা এক পোস্টে ওয়াংচুক লেখেন, “জে.পি. নাড্ডা, ড. জিতেন্দ্র সিং এবং লেহ-লাদাখের অ্যাপেক্স বডির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে ২৬ দিনের অনশন ভাঙলাম। এর আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৬৫ জন সাংসদ আমাকে দেখতে এসেছেন অথবা চিঠি লিখে অনশন ভাঙার অনুরোধ করেছেন। বিভিন্ন শর্ত নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর এবং দেশে সম্ভাব্য অশান্তির কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খুব শীঘ্রই একটি পৃথক ভিডিওতে সমস্ত শর্ত বিস্তারিত জানাব। ততদিন সবাইকে অনুরোধ, কোথাও যেন কোনও ধরনের হিংসা না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন।”
তিনি আরও জানান, এই দীর্ঘ অনশনের সময় তাঁর পরিবারের সমর্থন ও সাহচর্যই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ওয়াংচুকের শারীরিক অবনতির আশঙ্কায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর অনশন ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল।
এদিকে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আরও কঠোর আইন আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জানিয়েছেন, কেন্দ্র সরকার কঠোর শাস্তির বিধান রেখে একটি বিস্তৃত খসড়া বিল প্রস্তুত করেছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে চলতি সংসদ অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন ও পাস করানোর লক্ষ্য রয়েছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কঠোর পদক্ষেপ আগামীকালের মন্ত্রিসভার বৈঠকেই আসছে।” তিনি জানান, গত আড়াই মাসে কেন্দ্র সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, প্রশ্নফাঁসের কারণে ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের যে দুর্ভোগ হয়েছে, সে সম্পর্কে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন। প্রায় ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা বিলম্ব ছাড়াই সম্পন্ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল এবং ১৯ জুলাই ফল প্রকাশের পর দেশজুড়ে সফল পরীক্ষার্থীদের আনন্দের খবর আসছে। পরীক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় কেন্দ্র সরকার কোনওভাবেই শৈথিল্য দেখাবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
সূত্র: আইএএনএস



















