কোহিমা, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): জিওস্পেশিয়াল প্রযুক্তির বিস্তৃত ব্যবহার করে প্রমাণভিত্তিক পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে নাগাল্যান্ড জিআইএস অ্যান্ড রিমোট সেন্সিং সেন্টার (এনজিআইএসআরএসসি)। শুক্রবার রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে এই কেন্দ্রের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে।
এনজিআইএসআরএসসি-র সিনিয়র প্রজেক্ট ডিরেক্টর জানান, রাজ্যজুড়ে গ্রামভিত্তিক সম্পদ মানচিত্র তৈরি, জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার মূল্যায়ন, ভবনের স্তর পর্যন্ত শহুরে মানচিত্রায়ন, ভূমিধস-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল চিহ্নিতকরণ, জলজ সম্পদের মানচিত্র তৈরি, যান চলাচল সমীক্ষাসহ একাধিক বিষয়ভিত্তিক জিওস্পেশিয়াল প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
নাগাল্যান্ডের মুখ্যসচিব (উন্নয়ন) ও ডেভেলপমেন্ট কমিশনার ওয়াই. কিখেতো সেমা সম্প্রতি এনজিআইএসআরএসসি পরিদর্শন করে বিশেষজ্ঞ, আধিকারিক ও কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি কেন্দ্রটির কাজের প্রশংসা করে বলেন, বিস্তৃত জিওস্পেশিয়াল ডেটাবেস এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা রাজ্যের তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নে বাইরের সংস্থার উপর নির্ভর না করে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের উচিত এনজিআইএসআরএসসি-র প্রযুক্তিগত দক্ষতা, পরিকাঠামো ও বিশেষজ্ঞদের আরও বেশি ব্যবহার করা।
কিখেতো সেমা নাগাল্যান্ডে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে একটি সমন্বিত সমীক্ষা চালানোরও পরামর্শ দেন। তাঁর মতে, বর্তমান ও প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এই সমীক্ষা করলে বৈজ্ঞানিক ও দীর্ঘমেয়াদি শক্তি পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হবে।
ড্রোন সেন্টার অব এক্সেলেন্সের আধুনিক পরিকাঠামোরও প্রশংসা করেন তিনি। তাঁর মতে, ড্রোন প্রযুক্তি কর্মসংস্থান ও উদ্যোগ গড়ে তোলার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তিনি কেন্দ্রকে রিমোট পাইলট, ড্রোন প্রযুক্তিবিদ, জিওস্পেশিয়াল জরিপ বিশেষজ্ঞ, প্রশিক্ষক ও উদ্যোক্তা তৈরির লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
এছাড়া নাগাল্যান্ডের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী নিজস্ব ড্রোন নকশা, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উৎপাদনের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তাঁর মতে, এতে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা বাড়বে এবং নাগাল্যান্ড ড্রোন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনের আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।
পরিদর্শনের সময় তাঁকে ড্রোন সেন্টার অব এক্সেলেন্স-ড্রোন স্কুলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও অবহিত করা হয়। আধিকারিকরা জানান, বর্তমানে এফপিভি ড্রোন পরিচালনা, ড্রোন মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ, ড্রোন-ভিত্তিক জিআইএস ম্যাপিং এবং ড্রোন সিনেমাটোগ্রাফির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৫৮ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং ২০২৬ সালের আগস্ট মাস থেকে ডিজিসিএ অনুমোদিত ড্রোন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
সেমা কেন্দ্রের প্রশিক্ষণ পরিকাঠামো, ড্রোন সংযোজন পরীক্ষাগার, প্রোটোটাইপ ইউনিট এবং মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ল্যাবও ঘুরে দেখেন। পাশাপাশি ড্রোনের নকশা, সংযোজন, পরীক্ষা, ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কেও তাঁকে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
সূত্র: আইএএনএস



















