গুয়াহাটি, ২৪ জুলাই (আইএএনএস): অসমে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। রাজ্যের ১১টি জেলা এখনও বন্যাকবলিত। চলতি বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬-এ। পাশাপাশি ৭ লক্ষ ২১ হাজারেরও বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে শুক্রবার জানিয়েছে অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এএসডিএমএ)।
এএসডিএমএ-র তথ্য অনুযায়ী, গোলাঘাট, হোজাই, কামরূপ, চরাইদেও, যোরহাট, ডিব্রুগড়, শিবসাগর, নগাঁও, কামরূপ মেট্রো, কার্বি আংলং এবং তিনসুকিয়া— এই ১১টি জেলা বন্যার কবলে রয়েছে।
রাজ্যের ৩৭টি রাজস্ব চক্রের অধীন ৮৮৩টি গ্রাম জলমগ্ন হয়েছে। বন্যার জেরে ২৫,৩৭৫.৪৪ হেক্টর কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ায় ব্যাপক ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শিবসাগর জেলা, যেখানে ৩,৭৫,৬৮২ জন মানুষ বন্যার প্রভাবে পড়েছেন। এরপরই রয়েছে চরাইদেও (১,৮৬,৩৫১ জন) এবং যোরহাট (১,১৫,৭৬৪ জন)।
এএসডিএমএ জানিয়েছে, চলতি বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিবসাগরে ৪ জন এবং চরাইদেও জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে কোনও নিখোঁজ ব্যক্তির খবর পাওয়া যায়নি।
গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি কামরূপ, কামরূপ মেট্রো এবং ডিব্রুগড় জেলায় শহরাঞ্চলেও জল জমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়েছে। পাঁচটি রাজস্ব চক্রের অন্তর্গত ১৭টি এলাকা বা ওয়ার্ডে জল ঢুকে পড়ায় ৫৯২ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলিতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।
বন্যাদুর্গতদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১০৩টি ত্রাণ শিবির এবং ২৫৫টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ২৪ হাজারের বেশি মানুষ ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন এবং ২ লক্ষ ৩৯ হাজারেরও বেশি মানুষ ত্রাণসামগ্রী পেয়েছেন।
এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, সেনাবাহিনী, অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা, জেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের যৌথ উদ্যোগে উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে। এখনও পর্যন্ত নৌকার সাহায্যে ৪,৪৫৫ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে কেন্দ্রীয় জল কমিশন জানিয়েছে, বুরহিডিহিং, ডিসাং, দিখৌ, ধনশিরি (দক্ষিণ) এবং কুশিয়ারা-সহ একাধিক নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ফলে বন্যাকবলিত এলাকাগুলিতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রেখেছে।
এদিকে, শিবসাগর জেলার দিখৌ নদীর জলস্তর এখনও বিপজ্জনক অবস্থায় থাকায় শুক্রবার বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে এএসডিএমএ।
কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৯টায় শিবসাগরে দিখৌ নদীর জলস্তর ছিল ৯৪.২৬ মিটার, যা বিপদসীমা ৯২.৪০ মিটারের থেকে ১.৮৬ মিটার বেশি। যদিও জলস্তর কিছুটা কমতে শুরু করেছে, তবুও নদী এখনও ‘ভয়াবহ বন্যা’ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে।
জনস্বার্থে জারি করা সতর্কবার্তায় এএসডিএমএ জানিয়েছে, সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিখৌ নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষ করে মাছ ধরা, স্নান বা অন্য কোনও কাজে নদীর ধারে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। নতুন করে বৃষ্টি হলে বা নদীর জলস্তর আবার বাড়লে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। পাশাপাশি গুজবে কান না দিয়ে শুধুমাত্র সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার এবং যে কোনও জরুরি পরিস্থিতির খবর অবিলম্বে প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।



















