সোনামুড়া, ২০ জুন: হিন্দু বাঙালির অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব জামাইষষ্ঠীকে ঘিরে অন্যান্য বছরের মতো গ্রামীণ এলাকায় তেমন উৎসবের আমেজ দেখা গেল না। উৎসব উপলক্ষে মাছের বাজারে বড়সড় বিক্রির আশা নিয়ে বসেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ক্রেতা না আসায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
সোনামুড়া মহকুমার দক্ষিণাংশের কাঠালিয়া বাণিজ্যিক এলাকা এবং সোনামুড়া-বিলোনিয়া বাইপাস সড়কের ধারে মাছ বিক্রি করতে বসা ব্যবসায়ী নাসির মিয়া ও সঞ্জয় দেবনাথ জানান, জামাইষষ্ঠীকে সামনে রেখে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দূর-দূরান্ত থেকে এনে বিক্রির ব্যবস্থা করা হলেও বাজারে ক্রেতার সংখ্যা অনেকটাই কম। তাঁদের অভিযোগ, অনেকেই মাছের দাম শুনে না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।
প্রতি বছরের মতো এ বছরও জামাইষষ্ঠীকে কেন্দ্র করে শাশুড়ি-শ্বশুরদের মধ্যে জামাইকে আপ্যায়নের প্রস্তুতি থাকলেও আষাঢ় মাসে ষষ্ঠী পড়ায় নতুন জামাইদের আশীর্বাদ নিয়ে কিছুটা দ্বিধা দেখা দেয়। তবে পণ্ডিতদের মতে, পুরনো জামাইদের আশীর্বাদ ও ষষ্ঠীর আচার পালনে কোনও বাধা নেই। সেই কারণেই বাজারে ষষ্ঠীর বিভিন্ন সামগ্রীর পাশাপাশি মাছের চাহিদার আশায় বসেছিলেন ব্যবসায়ীরা।
তবে বাস্তবে চিত্র ভিন্ন। ক্রেতাদের একাংশের মতে, নিয়ম রক্ষার তাগিদে প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও মাছ কেনা হলেও আগের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। কেউ কেউ জানান, আর্থিক চাপ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বমুখী দামের কারণে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে উৎসবের খরচ সীমিত রাখতেই বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
স্থানীয়দের মতে, অন্যান্য বছর জামাইষষ্ঠীর কয়েকদিন আগেই গ্রামীণ এলাকায় উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে যেত। কিন্তু এবার সেই চেনা ব্যস্ততা বা উৎসবের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ছে না। সামগ্রিকভাবে গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর মন্দার প্রভাবই এবারের জামাইষষ্ঠীর বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের একাংশ।



















