বেইরুট, ২০ জুন (আইএএনএস): লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননের সাজদ শহরের কাছে জাবাল আল-রাফি এলাকায় ইজরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
সিনহুয়া সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকেল ৪টায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই ওই এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয় বলে খবর।
এদিকে, হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম শুক্রবার এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ইজরায়েল যদি হামলা চালায়, তবে হিজবুল্লাহও অস্ত্র হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তিনি বলেন, মৃত্যুর হুমকি সংগঠনের সদস্যদের দমিয়ে রাখতে পারবে না।
হিজবুল্লাহ পরিচালিত আল-মানার টিভি চ্যানেলে দেওয়া ভাষণে কাসেম দাবি করেন, “হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা এবং দখলদারিত্বকে স্থায়ী করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। ইজরায়েলকে আমাদের ভূমির প্রতিটি ইঞ্চি থেকে সরে যেতে হবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, লেবানন বর্তমানে অত্যন্ত সংকটপূর্ণ সময়ের মধ্যে রয়েছে এবং দেশটির ভবিষ্যৎকে লক্ষ্য করে একটি “মার্কিন-ইজরায়েলি প্রকল্প” বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ইজরায়েল লেবাননের রাজনৈতিক কর্তৃত্বকে প্রতিরোধ আন্দোলনের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে চাইছে এবং সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির পুনর্গঠনেও বাধা সৃষ্টি করছে।
কাসেম বলেন, হিজবুল্লাহর অস্ত্র কেবল ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্যই রয়েছে এবং তিনি ইজরায়েলকে লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে সম্মান করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর সংসদীয় গোষ্ঠী ‘লয়্যালটি টু দ্য রেজিস্ট্যান্স’-এর সদস্য ইব্রাহিম আল-মুসাওয়ি বলেন, ইজরায়েল যদি যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে চলে, তবে হিজবুল্লাহও চুক্তি মেনে চলবে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য জরুরি অপারেশনস সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইজরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ৩,৯৮০ জন নিহত এবং ১২,০০১ জন আহত হয়েছেন।



















