কলকাতা, ১৪ জুন (আইএএনএস): দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি এলাকায় চোর সন্দেহে এক ব্যক্তিকে বেঁধে বেধড়ক মারধর করে হত্যার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাশাপাশি দুই নাবালককে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত ব্যক্তি কেরলের বাসিন্দা। তাঁকে চোর সন্দেহে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৯ জুন। তবে পুলিশের দাবি, শনিবার সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও থেকে তারা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারে।
এরপর শনিবার একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। সেই সূত্রে প্রথমে আটজনকে আটক করা হয়। শনিবার গভীর রাতে তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, দুই নাবালককে আটক করা হয় এবং একজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ধৃতদের রবিবার আদালতে তোলা হবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেরলের ওই ব্যক্তি কাজের সূত্রে কুলতলির সাঁকিজাহান এলাকায় এক পরিচিত ব্যক্তির বাড়িতে এসেছিলেন। ৯ জুন সকালে তিনি স্থানীয় বাজারে গিয়েছিলেন। এলাকার রাস্তা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকায় ভুলবশত অন্য একটি পাড়ায় ঢুকে পড়েন।
সূত্রের খবর, ওই ব্যক্তি বাংলা ভাষা জানতেন না। এলাকায় তাঁকে ঘোরাফেরা করতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। একাংশ তাঁর পরিচয়পত্র দেখতে চান। এরপর কিছু মানুষের মধ্যে তিনি চোর হতে পারেন বলে সন্দেহ তৈরি হয়। অভিযোগ, তারপরই তাঁকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়।
পরে রাস্তার ধারে গুরুতর আহত অবস্থায় এক ব্যক্তি পড়ে থাকার খবর পেয়ে কুলতলি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তাঁকে উদ্ধার করে জয়নগর-কুলতলি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
পুলিশের এক সূত্র জানিয়েছে, প্রথমদিকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট ছিল না। পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হচ্ছে। তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে ভিডিওর ব্যক্তিই মৃত ব্যক্তি।
এরপর কুলতলি থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা রুজু করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ শুরু করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মৃত ব্যক্তির পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও তথ্যের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
























