নয়াদিল্লি, ১৩ জুন (আইএএনএস): অসমে ভারতীয় বায়ুসেনার একটি এএন-৩২ পরিবহণ বিমানের দুর্ঘটনায় পাঁচ বায়ুসেনা কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে এবং কংগ্রেস সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা। তাঁরা নিহত জওয়ানদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ খাড়্গে লেখেন, “অসমে ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান দুর্ঘটনায় পাঁচ বীর সেনার মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরে আমি গভীরভাবে শোকাহত। এই দুঃসময়ে তাঁদের পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা। আমরা তাঁদের সেবা ও নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগকে স্যালুট জানাই এবং তাঁদের ও তাঁদের পরিবারের কাছে দেশ চিরঋণী থাকবে।”
অন্যদিকে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাডরা লেখেন, “অসমে বায়ুসেনার বিমান দুর্ঘটনায় পাঁচ সাহসী সেনার শহিদ হওয়ার খবর অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ঈশ্বর যেন তাঁদের আত্মার শান্তি প্রদান করেন। শোকাহত পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সাহসী সেনা এবং তাঁদের পরিবারের কাছে দেশ চিরকাল ঋণী থাকবে।”
প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সকাল প্রায় ১০টা নাগাদ অসমের জোরহাট বিমান বাহিনী স্টেশন-এ অবতরণের সময় ভারতীয় বায়ুসেনার একটি আন্তোনভ আন-৩২ পরিবহণ বিমান দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। অবতরণের পরপরই বিমানটিতে আগুন লেগে যায়।
ভারতীয় বায়ুসেনা এক বিবৃতিতে জানায়, “আজ সকাল প্রায় ১০টায় অসমের যোরহাটে একটি নিয়মিত উড়ান চলাকালীন বায়ুসেনার একটি এএন-৩২ বিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার ও প্রাথমিক তদন্তের কাজ চলছে। প্রাথমিক তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হচ্ছে।”
পরে প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে যে দুর্ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
ভারতীয় বায়ুসেনাও শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, “এই প্রাণহানির ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত এবং শোকের এই সময়ে নিহতদের পরিবারের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছি।”
দুর্ঘটনার কারণ জানতে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ ও বায়ুসেনার কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছেন এবং প্রাথমিক তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সোভিয়েত আমলে তৈরি এএন-৩২ বিমান বহু দশক ধরে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম প্রধান পরিবহণ বিমান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বিশেষত উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং হিমালয় সংলগ্ন দুর্গম ও উচ্চ পার্বত্য এলাকায় এই বিমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
























