নয়াদিল্লি, ১ অগস্ট (আইএএনএস): জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং মরুকরণের মতো ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনী চিন্তা, আধুনিক প্রযুক্তি ও জনঅংশগ্রহণের ওপর জোর দিলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব। শনিবার দেরাদুনের ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ফরেস্ট অ্যাকাডেমি (আইজিএনএফএ)-তে ২০২৪ ব্যাচের ভারতীয় বন পরিষেবা (আইএফএস)-এর প্রবেশনারি আধিকারিকদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে সফল প্রবেশনারি আধিকারিকদের হাতে শংসাপত্র ও পদক তুলে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই আধিকারিকরা যখন তাঁদের কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছবেন, তখন ভারত স্বাধীনতার ১০০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। সেই লক্ষ্যেই ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং মরুকরণের মতো সমস্যার মোকাবিলায় উদ্ভাবন, আধুনিক প্রযুক্তি ও মানুষের অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং অন্যান্য উন্নত প্রযুক্তি শুধু তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের জন্য নয়, মানবিক সংবেদনশীলতা বজায় রেখে বাস্তবসম্মত সমাধান তৈরিতেও ব্যবহার করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, একজন সফল সরকারি কর্মচারীর সবচেয়ে বড় ভিত্তি হল নৈতিকতা ও দক্ষতা। আধিকারিকদের শুধু দক্ষ প্রশাসক নয়, কার্যকর নেতা হয়ে ওঠারও আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতাই একজন প্রকৃত নেতাকে আলাদা করে তোলে।
অনুষ্ঠানে আইজিএনএফএ-র অধিকর্তা রাজেন্দ্র প্রসাদ খাজুরিয়া প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদন তুলে ধরে জানান, ১৯৩৮ সালে ইন্ডিয়ান ফরেস্ট কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সব ভারতীয় বন পরিষেবা আধিকারিক এবং ১৪টি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের ৩৬৯ জন বন আধিকারিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে।
তিনি জানান, ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য অনুযায়ী সংশোধিত পাঠ্যক্রমে ২০ মাসের প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন মোট ১১১ জন প্রশিক্ষণার্থী। এর মধ্যে ২০২৪ ব্যাচের ১০৯ জন ভারতীয় বন পরিষেবা প্রবেশনারি এবং ভুটানের দু’জন প্রশিক্ষণার্থী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৭৫ জন ৭৫ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়ে অনার্স ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন।



















